শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর ৭৫ কোটি বই বিক্রি করেও আজ বিস্মৃত বারবারা কার্টল্যান্ড পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তাকে বদলি হামের উপসর্গে আরও ৭ মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ১ হাজার ১৯ দুর্গাপূজায় ইলিশ রপ্তানি ফের চালুর অনুরোধ ভারতের আমদানিকারকদের শাহবাগে পৃথক স্থান থেকে দুই মরদেহ উদ্ধার ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের কনসার্ট বন্ধের দাবি কওমি ছাত্র ঐক্য পরিষদের কারিগরি ত্রুটির আড়ালে নাশকতা বা ষড়যন্ত্র আছে কি না খতিয়ে দেখতে হবে: রিজভী বাংলা ও ইংরেজি মাধ্যমের কারিকুলামে আসছে সামঞ্জস্য: প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী রাজশাহীতে শতাধিক বাতব্যথা রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ
  • ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় তুঙ্গে — কে পাবেন ‘ধানের শীষ’?

    ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় তুঙ্গে — কে পাবেন ‘ধানের শীষ’?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ ঢাকা-১৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন দৌড় এখন তুঙ্গে। দলের ভেতরে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিযোগিতা— কে পাবেন কাঙ্ক্ষিত ‘ধানের শীষ’ প্রতীক, তা নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। দলীয় সূত্র জানায়, অন্তত নয়জন প্রভাবশালী নেতা এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। কেউ উঠান বৈঠকে, কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে, আবার কেউ সরাসরি তৃণমূলে যোগাযোগ রেখে নিজেদের অবস্থান মজবুত করছেন।

    ২০১৮ সালের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। তৎকালীন ভোটে তিনি জনতার সমর্থন পেলেও “রাতের ভোট” ও “ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর কারণে পরাজিত দেখানো হয় বলে অভিযোগ আছে। দীর্ঘদিন মাঠে থাকা এ নেতা এখনও তৃণমূলে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত বলে মনে করেন তার সমর্থকরা এবং দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন, এবার মনোনয়ন পেলে বিজয় নিশ্চিত।

    অন্যদিকে বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক ও ব্যবসায়ী এম কফিল উদ্দিন আহমেদও আছেন শক্ত অবস্থানে। ২০১৮ সালে দলীয় চিঠি পাওয়া এই নেতা এবার ও মাঠে নেমেছেন ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা’ প্রচারণা নিয়ে। তিনি বিভিন্ন উঠান বৈঠক, গণসংযোগ ও লিফলেট বিতরণে সক্রিয়। দলের জন্য তার দীর্ঘদিনের ত্যাগ ও অর্থনৈতিক অবদান তাকে মনোনয়ন দৌড়ে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে রেখেছে।

    মোস্তফা জামান — 
    ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির সদস্য সচিব মোস্তফা জামান তুলনামূলক নতুন মুখ হলেও দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছেন। তুরাগ এলাকা ও আশপাশে নিয়মিত গণসংযোগ করে তিনি নিজের বলয় তৈরি করেছেন। দলের ভেতরে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, যদিও কিছু সিনিয়র নেতার সঙ্গে মতপার্থক্য রয়ে গেছে।

    কামরুল ইসলাম — 
    সাবেক সংসদ সদস্য কামরুল ইসলাম দীর্ঘদিন পর আবারও আলোচনায়। একসময় ঢাকার রাজনীতিতে প্রভাবশালী এই নেতা ১/১১-র সময় সংস্কারপন্থী হিসেবে দল থেকে দূরে ছিলেন। সম্প্রতি তার ঘনিষ্ঠরা পুনরায় সক্রিয় হয়েছেন। তারেক রহমান ও খালেদা জিয়ার ঘনিষ্ঠতার সুবাদে তিনিও মনোনয়ন প্রতিযোগিতায় আছেন বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।

    আফাজ উদ্দিন আফাজ — 

    দীর্ঘ দুই দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন আফাজ উদ্দিন আফাজ ছাত্রদল-যুবদল হয়ে বিএনপির মূলধারায় উঠে এসেছেন। তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, “ঢাকা-১৮ কে মডেল আসন হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।” পূর্বে কাউন্সিলর নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ‘ভোট কারচুপির শিকার’ হওয়ার দাবি করলেও, এখনো তিনি তৃণমূলে জনপ্রিয় ‘জনতার কাউন্সিলর’ হিসেবে পরিচিত।

    বাহাউদ্দিন সাদী — 
    আগের দুই নির্বাচনে প্রার্থীতা ঘোষণা করা বাহাউদ্দিন সাদী এবার নীরব রয়েছেন। ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে, তিনি আড়ালে থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। যদিও তার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক প্রভাব খাটানোর অভিযোগ আছে, তিনি সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

    সাবেক ছাত্রনেতা -

    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রনেতা মোস্তাফিজুর রহমান সেগুনও মনোনয়ন প্রত্যাশী। পূর্বে কাউন্সিলর নির্বাচনে অংশ নিয়ে ‘রাতের ভোটে’ পরাজিত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি লন্ডন সফর শেষে দেশে ফিরলে কর্মীরা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করেন। তিনি এখন তৃণমূলের অন্যতম জনপ্রিয় তরুণ নেতা।

    আকতার হোসেন — 

    বিএনপির যুগ্ম আহবায়ক আকতার হোসেন ক্ষিলখেত ও ডুমনি এলাকায় পরিচিত মুখ। তবে পুরো আসনে তার প্রভাব রয়েছে । তিনি সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় এবং তরুণদের মাঝে জনপ্রিয়তা অর্জনের চেষ্টা করছেন।

    হেলাল তালুকদার — 
    দক্ষিণখান থানা বিএনপির আহ্বায়ক হেলাল তালুকদারও মনোনয়ন দৌড়ে অন্যতম আলোচিত নাম। ‘রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা কর্মসূচি’ নিয়ে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় উঠান বৈঠক করছেন তিনি। নতুন কাগজ রিপোর্টারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন“দেশনায়ক তারেক রহমানের নির্দেশে দক্ষিণখান থানার অলিতে-গলিতে উঠান বৈঠক করছি। দল যাকে মনোনয়ন দিবে আমি তার পক্ষে কাজ করবো, আমিও আশাবাদী।তবে তার সমর্থকরা উঠান বৈঠকে গণজোয়ারের এবং সাধারণ মানুষের ভালোবাসার কারণে ঢাকা ১৮ আসনের উন্নয়নে  তাকে এমপি হিসেবে চাই। 

    দলীয় সূত্র জানায়, এই নয়জনের বাইরে আরও কয়েকজন জোটভুক্ত নেতার নামও আলোচনায় আছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে আগামী মাসের প্রথম সপ্তাহে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ