বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • অনুমতি ছাড়া ভিডিও ছড়ালে দ্রুত বিচার: কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের হুঁশিয়ারি সরকারের তাসকিন-মোস্তাফিজ ছাড়া টি-টোয়েন্টি স্কোয়াডে বড় পরিবর্তন চীনে বিএনপি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে শীর্ষ পর্যায়ের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত সংরক্ষিত নারী আসনে বাছাই শুরু আজ ‘গুপ্ত’ স্লোগানকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রাম সিটি কলেজে সংঘর্ষ এক বছরের ব্যবধানে আবার বদলাচ্ছে পুলিশের পোশাক সৌদিতে থাকা শর্ত পূরণকারী রোহিঙ্গাদের দ্রুত পাসপোর্ট দেওয়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দেশজুড়ে সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন এসএসসি’র প্রথম পরীক্ষা: শিক্ষামন্ত্রী ডিজেল মজুত ১.২২ লাখ টন, সংকট নেই: ডা. জাহেদ উর রহমান
  • মানিকগঞ্জে পদ্মা-যমুনায় ভয়াবহ ভাঙ্গন 

    মানিকগঞ্জে পদ্মা-যমুনায় ভয়াবহ ভাঙ্গন 
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মানিকগঞ্জ জেলার শিবালয় উপজেলার পাটুরিয়া, আরুয়া ও আশপাশের এলাকায় পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে ফেরিঘাটসহ শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। চরম ঝুঁকিতে রয়েছে পাটুরিয়া লঞ্চঘাট, ফেরিঘাট ও আশপাশের কয়েকশ পরিবার।

    যমুনা নদীর ভাঙনের কবলে গত জুন মাসে দৌলতপুর উপজেলার নিজ বেরাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন তলা পাকা ভবন নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। 

    এছাড়া বাঘুটিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজায় ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যেই শতাধিক পরিবার ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে। এদিকে হরিরামপুর, শিবালয় ও দৌলতপুর উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকার শত শত পরিবার ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে।

    স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীতীরে ড্রেজার বসিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের ফলে ভাঙন ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তাদের দাবি, নদীতীরবর্তী এলাকায় বালু উত্তোলন বন্ধ হলে ভাঙন অনেকাংশে কমে যাবে।

    জানা গেছে, দৌলতপুরের বাঘুটিয়া ও শিবালয়ের আরুয়া ইউনিয়নের বাসিন্দারা নদীভাঙন প্রতিরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবিতে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং মানববন্ধন কর্মসূচিও পালন করেছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।

    ত্রাণ ও পুনর্বাসন অফিস সূত্রে জানা গেছে, শিবালয়ের তেওতা ইউনিয়নের আলোকদিয়া, কানাইদিয়া, জাফরগঞ্জ, নিহালপুর এবং শিবালয় ইউনিয়নের চরশিবালয়, ছোট আনুলিয়া, অন্বয়পুর, ঝড়িয়ারবাগ, দাসকান্দি, এলাচিপুর এবং আরুয়া ইউনিয়নের ধুতরাবাড়ী, তেঘুড়ি, বড়রিয়া, ত্রিলোচনপট্টি (পাওয়ার প্লান্ট), নয়াকান্দি, মান্ডাখোলা প্রাইমারি স্কুল, দেবীনগর ও বাউলীকান্দা গ্রামগুলো নদীতীরবর্তী হওয়ায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

    নদীভাঙনের শিকার শিবালয়ের তেঘুড়ি গ্রামের ইতি আক্তার বলেন, “গত কয়েক দিনের পদ্মার ভাঙনে আমার বাড়িঘর সম্পূর্ণ বিলীন হয়ে গেছে। এখন সন্তান নিয়ে কোথায় যাব, কিছুই জানি না।”একই গ্রামের আব্দুস সালাম জানান, “দুই দিন আগেও আমার ঘর ছিল। মুহূর্তের মধ্যে পদ্মা নদী সবকিছু নিয়ে গেল। পরিবার নিয়ে এখন দিশেহারা হয়ে পড়েছি।”

    নদীপাড়ের বাসিন্দা মো. রানা বলেন, “জীবন-জীবিকা, বসতভিটা, এমনকি যোগাযোগ ব্যবস্থাও এখন হুমকির মুখে। সরকার দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে হাজারো মানুষ বাড়িঘর হারাবে।”

    পাটুরিয়া ফেরিঘাটের ভাঙন বিষয়ে বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী নেপাল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, “আমরা শুধুমাত্র ফেরিঘাট পয়েন্টে কাজ করি। নদীর ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে পত্র দেওয়া হয়েছে। ঘাট এলাকায় অস্থায়ীভাবে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে এবং ঘাটগুলো সচল রাখতে নিয়মিত সমন্বয় করছি।”

    পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান বলেন, “পদ্মা ও যমুনার বিভিন্ন ভাঙন এলাকায় আমরা কাজ করছি। ঘাট এলাকা আমাদের আওতায় না থাকলেও অন্যান্য স্থানে ভাঙনরোধে ব্যবস্থা নিয়েছি এবং আরও কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।”জেলা প্রশাসক (যুগ্ম সচিব) ড. মানোয়ার হোসেন মোল্লা জানান, “নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোকে চাল ও শুকনো খাবার দেওয়া হয়েছে। যেসব পরিবার ভিটেমাটি হারিয়েছে, তাদের ঘর নির্মাণের জন্য টিন সরবরাহ করা হচ্ছে।”

    এ বিষয়ে মানিকগঞ্জের ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা ইফফাত আরা ইমা বলেন, “জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে নদীভাঙনের শিকার পরিবারগুলোর তালিকা সংগ্রহ করছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে জরুরি ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া হবে। আমরা ইতোমধ্যে শিবালয় উপজেলার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের তালিকা হাতে পেয়েছি। বাকি উপজেলার তালিকা এখনো আমাদের অফিসে আসেনি।”

    স্থানীয়দের মতে, অস্থায়ী জিও ব্যাগ দিয়ে কিছুটা সময়ের জন্য ভাঙন ঠেকানো গেলেও এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়। তারা নদীর পাড় রক্ষায় টেকসই ও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ এবং অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের দাবি জানিয়েছেন। পদ্মার তীব্র স্রোতে আতঙ্ক বাড়ছে। নদীর ধারে রাতেও ঘুমাতে পারছেন না অনেকে। যে কোনো মুহূর্তে ভাঙনের শিকার হওয়ার শঙ্কায় দিন কাটছে শত শত মানুষের।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    আরও পড়ুন