একাধিক ফৌজদারী মামলার আসামী স্বর্গদেবী ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা এখন ঢাকায় ! ডাক্তার নয়, এ যেন হ্যামিলিয়ন বাঁশিওয়ালা, দেবীর কথাই শেষ কথা, দিতে হবে স্বাধীনতা

সিরাজগঞ্জের বহুল আলোচিত ব্যক্তি রফিকুল ইসলাম বাবু ও তার মেয়ে ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যাকে ঘিরে একাধিক মামলা, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের জালে পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করেছে। বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করা ডা. বন্যার বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল ও সিরাজগঞ্জ আদালতে একাধিক ফৌজদারি মামলা চলমান। একইসঙ্গে তার পরিবারকে ঘিরে একাধিক বিতর্ক সামাজিক ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের একটি সার্কুলারের (স্মারক নং ৪৪,০১,০০০,১০২,৯১,০০৬,২০২৪(বিবিধ)৭৫৮ তারিখ: ২৮ মে ২০২৫) আলোকে দেশব্যাপী তদন্ত কার্যক্রম চলছে। জানা গেছে, বর্তমানে ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা টাঙ্গাইলের আদালতে দায়ের করা মামলাগুলোতে জামিনে মুক্ত। এর মধ্যে মামলা নং ৯০/২০২৪, ১২০/২০২৪, ৩৩/২০২৪, ৭৯৮/২০২৫ ও ২৩৬/২০২৫ উল্লেখযোগ্য। বিশেষ করে ৭৯৮ নং মামলায় তিনি অঙ্গীকারনামা ও মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পান।
ডা. বন্যা সিরাজগঞ্জের নর্থ বেঙ্গল মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাশ করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তার পিতা রফিকুল ইসলাম বাবু অর্থের জোরে মেয়েকে পাশ করিয়েছেন। বন্যার বিয়ের বিষয়েও বিতর্ক রয়েছে। পরিবারের পছন্দের বাইরে এক ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে তার সম্পর্ক ও পরবর্তীতে জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। অবশেষে ২০২২ সালে বন্যার বর্তমান স্বামীর সঙ্গে বিবাহ হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বন্যা শ্বশুরবাড়িতে থাকতে অনাগ্রহী এবং শ্বশুর মোজাম্মেল হকের সঙ্গে একাধিক ঘটনায় পারিবারিক দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। শ্বশুরের করা জিডি (গোপালপুর থানায় নং ৮৯৪ ও ৭২৮/২০২৪) অনুযায়ী, বন্যা হুমকি দিয়েছিলেন যে তাকে জোর করে শ্বশুরবাড়িতে রাখলে তিনি আত্মহত্যা করবেন এবং পরিবারের সদস্যদের কারাগারে পাঠাবেন।
বন্যার পিতা রফিকুল ইসলাম বাবুর বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে। তিনি সিরাজগঞ্জে ন্যাশনাল টাইলসের মালিক এবং স্থানীয় বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক হলেও গত ১৭ বছর ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাঁদাবাজি ও প্রতারণার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রেখে তিনি দীর্ঘদিন আইনের বাইরে থেকে গেছেন।
বন্যার শ্বশুর মোজাম্মেল হক অভিযোগ করেছেন যে, জামাইকে নিজের প্রভাবে ঢাকায় আলাদা বাসায় রাখিয়ে রফিকুল বাবু মাসে কয়েক লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এসবের প্রতিবাদ করায় তার বিরুদ্ধে একাধিক গায়েবি মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। এমনকি প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগও তোলা হয়েছে।
অভিযোগকারী মোজাম্মেল হক দাবি করেছেন, তিনি জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সেনাবাহিনী, র্যাব, টিআইবি ও রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন নেতাদের দ্বারস্থ হলেও এখনও ন্যায়বিচার পাননি। ২২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে তিনি টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ বিষয়ে জনমত গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস বন্যা ও তার পরিবারকে ঘিরে চলমান মামলা ও বিতর্ক সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। কেউ এটিকে পারিবারিক কলহ হিসেবে দেখছেন, কেউবা প্রভাবশালী চক্রের দাপট হিসেবে উল্লেখ করছেন। এখন দেখার বিষয়, তদন্ত কার্যক্রমের মাধ্যমে সত্য কতটা উদ্ঘাটিত হয় এবং সংশ্লিষ্টরা ন্যায়বিচার পান কিনা।