শেফালির একার রানও করতে পারল না বাংলাদেশ, ১১৪ রানের হার

এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে ভারতের বিপক্ষে বড় ব্যবধানে হেরে ফাইনালের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। দ্বিতীয় সেমিফাইনালে নিগার সুলতানা জ্যোতির দলকে ১১৪ রানে হারিয়ে শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচ নিশ্চিত করেছে ভারত।
করোগি স্পোর্টস পার্কে আগে ব্যাট করে ১৯৫ রান সংগ্রহ করে ভারত। জবাবে বাংলাদেশের ইনিংস থামে মাত্র ৮১ রানে। অর্থাৎ ভারতের ওপেনার শেফালি ভার্মা একাই যে ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেছেন, পুরো বাংলাদেশ দলও সেই রানসংখ্যা স্পর্শ করতে পারেনি।
ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন শেফালি। ক্যারিয়ারের প্রথম শতক তুলে নেওয়া এই ওপেনার ১০০ রানে অপরাজিত থাকেন। তাঁর সঙ্গে হারমানপ্রীত কৌর ৪০ এবং স্মৃতি মান্ধানা ৩৭ রান করেন। ১৯ বলে ৫টি চার ও ২টি ছক্কায় ৩৭ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন স্মৃতি। নাহিদা আক্তারের বলে আউট হওয়ার আগে ভারতকে দ্রুত রান এনে দেন তিনি।
১৯৫ রানের কঠিন লক্ষ্য সামনে রেখে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই কোনো রান না করে ফিরে যান জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। এরপর সোবহানা মোস্তারি, অধিনায়ক জ্যোতি ও দিলারা আক্তারও দ্রুত সাজঘরে ফেরেন।
দলীয় ৪৯ রানেই পাঁচ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি তারা। শেষ পর্যন্ত ৮১ রানেই গুটিয়ে যায় পুরো দল।
বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৭ রান করেন দিলারা আক্তার। সুলতানা খাতুনের ব্যাট থেকে আসে ১২ রান, শারমিন আক্তার করেন ১০। এই তিনজন ছাড়া আর কোনো ব্যাটার দুই অঙ্কের ঘরে যেতে পারেননি।
ভারতের বোলারদের মধ্যে দীপ্তি শর্মা ছিলেন সবচেয়ে সফল। মাত্র ৭ রান দিয়ে তিনি তুলে নেন ৩ উইকেট। নন্দিনী শর্মা ২৫ রানে ৩ উইকেট এবং শ্রী চরনি নেন ২ উইকেট।
বাংলাদেশের বোলিংয়েও কয়েকজন উইকেট পেলেও ভারতের বড় সংগ্রহ আটকানো যায়নি। মারুফা, সানজিদা আক্তার মেঘলা, রাবেয়া খাতুন ও নাহিদা আক্তার একটি করে উইকেট নেন। তবে নাহিদা ৪ ওভারে ৪৮ রান খরচ করেন। মারুফা দেন ৪৩ রান।
এই হারের ফলে ফাইনালে ওঠার সুযোগ হারাল বাংলাদেশ। এর আগে নারী এশিয়ান কাপের সর্বশেষ সেমিফাইনালেও ভারতের কাছে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের। এবারও শেষ চারে ভারতের বাধা পেরোতে পারল না জ্যোতির দল।
তবে পদকের আশা শেষ হয়ে যায়নি বাংলাদেশের। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের মুখোমুখি হবে তারা। অন্যদিকে প্রথম সেমিফাইনালে পাকিস্তানকে ৮ উইকেটে হারানো শ্রীলঙ্কা আগামী ২২ সেপ্টেম্বর ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে।