দেশের দুই প্রান্তকে যুক্ত করতে দীর্ঘতম রেলপথের পথে বাংলাদেশ

দেশের দুই প্রান্তকে রেলপথে যুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। এর আওতায় হিমালয়ঘেঁষা উত্তরের জেলা পঞ্চগড় থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সমুদ্র শহর কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চালুর প্রস্তুতি চলছে। প্রায় ১ হাজার ৭৭ কিলোমিটারের এই রুট চালু হলে এটি হবে দেশের দীর্ঘতম রেলপথ।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিশেষ অগ্রাধিকার প্রকল্পের আওতায় রুটটি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। পাঁচটি পৃথক প্রকল্পের সমন্বয়ে পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ব্রডগেজ/ডুয়েলগেজ রেল যোগাযোগ স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
রেলওয়ের প্রধান পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম জানান, পঞ্চগড়সহ পশ্চিম ও উত্তরাঞ্চলের মানুষ সরাসরি ট্রেনে কক্সবাজার যেতে পারবেন। সাড়ে চার বছরের মধ্যে পাঁচটি প্রকল্পের কাজ শেষ করে এই রুটে ট্রেন চালুর লক্ষ্য রয়েছে। এ জন্য প্রয়োজনীয় ইঞ্জিন ও কোচ সংগ্রহের কাজও শুরু হয়েছে।
রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, পঞ্চগড় থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত সরাসরি ট্রেন চলবে এবং বর্তমান সরকারের মেয়াদেই এর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা হবে। প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন অনুযায়ী এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে বলেও জানান তিনি।
রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, এই রুট বাস্তবায়নে টঙ্গী-আখাউড়া, লাকসাম-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-দোহাজারী, শান্তাহার-বগুড়া এবং বগুড়া-সিরাজগঞ্জ—এই পাঁচটি রেল প্রকল্পকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এসব প্রকল্পে ব্রডগেজ ও ডুয়েলগেজ রেললাইন নির্মাণ বা আধুনিকায়নের কাজ রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাবে, পাঁচটি প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। রুটটি চালু হলে নতুন করে ২০টি আন্তঃনগর ট্রেনসহ প্রায় আড়াইশ ট্রেন পরিচালনার সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা ধারণা করছেন।
রেলওয়ের অপারেশন ও পরিবহন বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, এই রেল করিডর শুধু যাত্রী যোগাযোগ সহজ করবে না, বরং উত্তরাঞ্চল ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মধ্যে পণ্য পরিবহন, পর্যটন ও বাণিজ্যিক যোগাযোগও বাড়াবে। পঞ্চগড়ের সীমান্তঘেঁষা জনপদ থেকে কক্সবাজারের সমুদ্রতট পর্যন্ত সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হলে দেশের অর্থনীতিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।