সোমবার, ৩১ অগাস্ট ২০২৬
Natun Kagoj

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৯০৩, নিখোঁজ ৪২০০

নেপালে বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ৯০৩, নিখোঁজ ৪২০০
ছবি : সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

নেপালে ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে পৌঁছেছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৪ হাজার ২০০ মানুষ। দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্যের বরাত দিয়ে এ খবর জানিয়েছে বিবিসি।

নিখোঁজদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। অস্ট্রেলিয়া সরকার জানিয়েছে, নেপালে অন্তত ৪৩ জন অস্ট্রেলীয় নাগরিকের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ২৭৫। এ ছাড়া ভারতীয় বংশোদ্ভূত আরও ১২৮ জনেরও কোনো খোঁজ মিলছে না।

প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যেও নেপালের বিভিন্ন দুর্গম এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। তবে উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি মরদেহ ব্যবস্থাপনাও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বন্যার পানিতে ভেসে আসা অনেক মরদেহ দীর্ঘ সময় পানিতে থাকায় দ্রুত পচে যাচ্ছে। ফলে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় ডিএনএ নমুনা সংগ্রহের পর অশনাক্ত মরদেহ গণকবর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

শত শত মরদেহের জন্য গণকবর

দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত পাহাড়ি এলাকা রাসুয়া থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে চিতওয়ানের দেবঘাট বনাঞ্চলে মরদেহ দাফনের জন্য গণকবর প্রস্তুত করা হয়েছে।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সেখানে রোববার শতাধিক মরদেহ দাফন করা হয়েছে। এর আগের দিন শনিবার ৯৬টি মরদেহ দাফন করা হয়।

ভরতপুরের প্রধান জেলা কর্মকর্তা গণেশ আর্য বলেন, বন্যার স্রোতে ভেসে আসা মরদেহগুলো দ্রুত পচে যাওয়ায় সেগুলো বেশিক্ষণ সংরক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দ্রুত মরদেহ দাফন করা হচ্ছে।

দাফনের আগে যতটা সম্ভব মরদেহের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে, যাতে পরবর্তী সময়ে নিখোঁজ ব্যক্তিদের স্বজনদের সঙ্গে পরিচয় শনাক্তকরণ ও মিলিয়ে দেখার সুযোগ থাকে।

নতুন বন্যার শঙ্কা

এদিকে নেপালের দুর্যোগ পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসার আগেই নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। চীন জানিয়েছে, উজানের একটি এলাকায় ভূমিধসের কারণে প্রাকৃতিকভাবে নতুন একটি হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। সেখান থেকে আকস্মিক বন্যা নেমে আসার আশঙ্কা রয়েছে।

গত বুধবার হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহধসের পর বরফ, পাথর ও কাদামাটির প্রবল স্রোত নেমে আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়। এতে নেপাল-তিব্বত সীমান্তবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে তিব্বতেও। সেখানেও হতাহত ও নিখোঁজের খবর পাওয়া গেছে।

নেপালে এখন উদ্ধার অভিযান, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং মরদেহ শনাক্তের কাজ একসঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। প্রতিকূল আবহাওয়া ও দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে উদ্ধার তৎপরতায় নানা বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

আরও পড়ুন