বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যয়, উদ্ধারকাজ অব্যাহত

জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যয়, উদ্ধারকাজ অব্যাহত
ছবি: সংগৃহীত
গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুমামোতো প্রশাসনিক অঞ্চলে আঘাত হানা শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে পৌঁছেছে। এখনও অনেক মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে আছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকারী দলগুলো অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ভূমিকম্প আঘাত হানার পর রাতভর অভিযান চালিয়ে প্রায় ৯ হাজার ৮৭২ জন মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। একই সময়ে প্রায় ৩৬ হাজার ৭০০ পরিবার বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।

ভূমিকম্পের প্রভাবে কিয়ুশু দ্বীপের রেল যোগাযোগও ব্যাহত হয়েছে। জাপান রেলওয়ে জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন পরীক্ষা ও মেরামতের কারণে ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, বুলেট ট্রেনে থাকা সাতজন যাত্রী ভূমিকম্পে আহত হয়েছেন।

কিছু ট্রেন ক্ষতিগ্রস্ত লাইনে আটকে যাওয়ায় কয়েকজন যাত্রীকে পুরো রাত ট্রেনের ভেতর কাটাতে হয়েছে।

কুমামোতো শহরের এক বাসিন্দা স্কটিশ নাগরিক শন উইলসন বিবিসিকে জানিয়েছেন, গত এক দশকে এটি তার দ্বিতীয় বড় ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পের তুলনায় এবার ক্ষয়ক্ষতি কিছুটা কম হলেও কম্পনের সময় পরিস্থিতি ছিল অত্যন্ত আতঙ্কজনক।

তিনি জানান, ভূমিকম্পের সময় মনে হচ্ছিল মাটি যেন স্থির নেই, বরং পানির মতো দুলছে।

শপিং মলে উদ্ধার অভিযান

ভূমিকম্পে কুমামোতোর একটি বড় শপিং সেন্টার ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়োন মলে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে এখন পর্যন্ত তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই ভবন থেকে আটজনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। উদ্ধারকারীরা এখনো নিখোঁজ ব্যক্তি ও আটকে থাকা মানুষদের সন্ধানে কাজ করছেন।

অগ্নিনির্বাপন বাহিনী, পুলিশ এবং জাপানের সেল্ফ ডিফেন্স ফোর্সের সদস্যরা রাতভর উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাড়ানো হয়েছে উদ্ধার তৎপরতা

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন এবং উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন।

তিনি জানিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও উদ্ধার কার্যক্রমে সাড়ে তিন হাজারের বেশি কর্মী মোতায়েন করা হয়েছে। একই সঙ্গে গরম আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকর্মী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইয়াতসুশিরো শহরের একটি শিল্প কারখানায় চিমনি ধসে দুজন নিহত হয়েছেন এবং কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া বহু মানুষ পানি ও বিদ্যুৎ সংকটে পড়েছেন। অন্তত ৪৫টি চিকিৎসাকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আফটারশকের সতর্কতা

জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, ভূমিকম্পের পর একাধিক আফটারশক অনুভূত হয়েছে। সংস্থাটির কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

২০১৬ সালে কুমামোতো অঞ্চলে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ২৭৮ জনের মৃত্যু হয়েছিল। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এবারের ভূমিকম্পের সঙ্গে ওই সময়ের ফল্ট লাইনের সম্পর্ক থাকতে পারে।

জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৭ দশমিক ১ জানিয়েছিল। পরে মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এর মাত্রা ৬ দশমিক ৮ বলে উল্লেখ করে।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞদের মতে, কুমামোতো অঞ্চলের হিনাগু ফল্ট জোনের নড়াচড়ার কারণে এই ভূমিকম্প সৃষ্টি হয়ে থাকতে পারে। তারা বলছেন, ২০১৬ সালের বড় ভূমিকম্পের পর জমে থাকা চাপের প্রভাবেও নতুন কম্পনের সৃষ্টি হতে পারে।


গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

সর্বশেষ

আরও পড়ুন