শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সাইফকে ‘কুল স্বামী’ বললেন কারিনা, জবাবে যা বললেন অভিনেতা এনআইডি সংশোধনের ৬৪ লাখ আবেদন নিষ্পত্তি, অপেক্ষায় আরও ১ লাখ ২৮ হাজার প্রথম ফুটবলার হিসেবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার জিতলেন মেসি বাস, ট্রেন, লঞ্চ ও বিমানে নামাজ পড়ার নিয়ম, যা জানা জরুরি পানির বোতল কত দিন পরপর পরিষ্কার করবেন? রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলার পর ১৪১ ফ্লাইট বাতিল, ভোগান্তিতে ২১ হাজার যাত্রী সৌদিতে কারাগারে সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্তদের তথ্য যাচাই চলছে দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম সরকারি ঋণের অনুপাত বাংলাদেশের মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার জন্য ইসরায়েলি দখলদারিত্ব দায়ী: চার দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শফিকুর রহমানের এক্স অ্যাকাউন্ট হ্যাকের তদন্তে অগ্রগতি নেই, ডিভাইস চায় ডিবি
  • পানির বোতল কত দিন পরপর পরিষ্কার করবেন?

    পানির বোতল কত দিন পরপর পরিষ্কার করবেন?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    কর্মস্থল, জিম কিংবা স্কুলে যাওয়ার সময় অনেকেই সঙ্গে রাখেন পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল। সারাদিন বোতলে পানি ভরে পান করলেও এটি কতটা পরিষ্কার, তা নিয়ে সচেতনতা কম। অথচ নিয়মিত পরিষ্কার না করলে বোতলের ভেতরে ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু জমতে পারে। তাই শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া নয়, বোতল পরিষ্কারে প্রয়োজন সঠিক নিয়ম মেনে চলা।

    বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন গরম পানি ও সাবান দিয়ে পানির বোতল পরিষ্কার করা উচিত। আর জুস, দুধ, প্রোটিন শেক, ডাবের পানি কিংবা ইলেক্ট্রোলাইটযুক্ত পানীয় রাখলে প্রতিবার ব্যবহারের পরই বোতল ধুয়ে নিতে হবে। সপ্তাহে অন্তত একবার ঢাকনা, স্ট্র ও রাবারের সিলসহ বোতলের প্রতিটি অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি।

    বোতলে কেন জমে জীবাণু?

    পানির বোতল নিয়মিত ব্যবহার করলে মুখের ব্যাকটেরিয়া চুমুকের সঙ্গে বোতলের ভেতরে প্রবেশ করতে পারে। বোতলের ভেতরে আর্দ্রতা থেকে গেলে এবং সেটি উষ্ণ পরিবেশে রাখা হলে ব্যাকটেরিয়া বংশবিস্তারের সুযোগ পায়।

    এ ছাড়া বোতলের ভেতরের দেয়ালে ব্যাকটেরিয়া ও অন্যান্য অণুজীব মিলে পিচ্ছিল একটি স্তর তৈরি করতে পারে, যাকে বলা হয় বায়োফিল্ম। শুধু পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললে এই স্তর পুরোপুরি দূর নাও হতে পারে। ব্যাগ, গাড়ি কিংবা জিমের মতো উষ্ণ স্থানে বোতল দীর্ঘ সময় পড়ে থাকলেও জীবাণু বৃদ্ধির অনুকূল পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

    ২০২৪ সালে জার্নাল অব ফার্মেসি অ্যান্ড বায়োঅ্যালাইড সায়েন্সেস-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় নিয়মিত ব্যবহারকারীদের ৩০টি পানির বোতল পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১৫টি ছিল প্লাস্টিকের (পিইটি) এবং ১৫টি স্টেইনলেস স্টিলের। গবেষণায় স্টিলের বোতলের তুলনায় প্লাস্টিকের বোতলে বেশি ব্যাকটেরিয়া পাওয়া যায়। প্রতি মিলিলিটারে ব্যাকটেরিয়ার গড় পরিমাণ ছিল প্লাস্টিকের বোতলে ৬৮ দশমিক ৮ এবং স্টিলের বোতলে ৩৫ দশমিক ৪ কলোনি-গঠনকারী একক (সিএফইউ)।

    গবেষণায় নিয়মিত ব্যবহারের সঙ্গে বোতলে ব্যাকটেরিয়ার পরিমাণ বৃদ্ধির প্রবণতাও দেখা যায়। নিয়মিত পরিষ্কার করলে ব্যাকটেরিয়ার উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব বলে গবেষকেরা উল্লেখ করেছেন। তবে গবেষণাটি মাত্র ৩০টি বোতলের ওপর পরিচালিত হওয়ায় এর ফলাফলকে সীমিত পরিসরের প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।

    বোতলের কোন অংশে বেশি ময়লা জমে?

    পানির বোতলের কয়েকটি অংশে জীবাণু ও ময়লা জমার ঝুঁকি বেশি থাকে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে—

    ঢাকনা ও মুখবন্ধনী: ঠোঁটের সরাসরি সংস্পর্শে আসায় এখানে মুখের ব্যাকটেরিয়া জমতে পারে।

    স্ট্র: সরু ও ভেতরের অংশ সহজে দেখা যায় না বলে ঠিকমতো পরিষ্কার করা কঠিন।

    রাবারের সিল ও গ্যাসকেট: এসব অংশের ফাঁকে পানি ও আর্দ্রতা আটকে থাকতে পারে।

    বোতলের তলা: এখানে ময়লা ও অবশিষ্টাংশ জমে থাকতে পারে।

    যেভাবে পরিষ্কার করবেন পানির বোতল

    বোতল পরিষ্কারের সময় প্রথমে ঢাকনা, স্ট্র ও রাবারের সিল খুলে আলাদা করে নিতে হবে। এরপর গরম পানি ও সাবান দিয়ে প্রতিটি অংশ ধুতে হবে। বোতলের ভেতর পরিষ্কার করতে বোতল ব্রাশ এবং স্ট্রের জন্য সরু ব্রাশ ব্যবহার করা ভালো।

    পরিষ্কার করার পর সাবানের অবশিষ্টাংশ দূর করতে সব অংশ ভালোভাবে পানি দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে। এরপর ঢাকনা ও অন্যান্য অংশ আলাদা রেখে বাতাসে সম্পূর্ণ শুকাতে দিতে হবে। ভেজা অবস্থায় বোতল বন্ধ করে রাখলে ভেতরে আর্দ্রতা জমে থাকতে পারে।

    সপ্তাহে একবার বাড়তি যত্ন হিসেবে বোতলের অংশগুলো পরিষ্কার করা যেতে পারে। সাদা ভিনেগার মেশানো পানি বা বেকিং সোডা ব্যবহার করার আগে বোতল প্রস্তুতকারকের নির্দেশনা দেখে নেওয়া উচিত। কোনো উপাদান ব্যবহারে বোতলের ক্ষতি হতে পারে কি না, তা বিবেচনা করতে হবে। ডিশওয়াশারে পরিষ্কার করার ক্ষেত্রেও বোতলের গায়ে থাকা নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।

    যাঁদের বাড়তি সতর্ক থাকা প্রয়োজন

    শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, গর্ভবতী নারী এবং যাঁদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল, তাঁদের পানির বোতলের পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকা উচিত। জিমে, বাইরে কিংবা ভ্রমণের সময় নিয়মিত বোতল ব্যবহার করেন—এমন ব্যক্তিদেরও পরিষ্কারের বিষয়ে যত্নবান হওয়া প্রয়োজন। একই বোতল একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে ভাগাভাগি করে ব্যবহার না করাই ভালো, কারণ এতে জীবাণু ছড়িয়ে পড়তে পারে।

    জীবাণু জমা ঠেকাতে যেসব অভ্যাস জরুরি

    বোতলে পুরোনো পানি দিনের পর দিন রেখে না দিয়ে নিয়মিত নতুন পানি ভরা উচিত। গরম গাড়ির ভেতরে দীর্ঘ সময় বোতল ফেলে রাখা এড়িয়ে চলুন। বোতলে ফাটল বা গভীর আঁচড় দেখা দিলে কিংবা সিল ও স্ট্র ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেগুলো বদলে ফেলুন। পরিষ্কারের পরও বোতলে দুর্গন্ধ থাকলে সেটি ভালোভাবে পরীক্ষা করে প্রয়োজন অনুযায়ী বদলে নেওয়া উচিত।

    সম্ভব হলে দুটি বোতল ব্যবহার করতে পারেন। এতে একটি ব্যবহার করার সময় অন্যটি ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

    কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?

    বারবার পেট খারাপ, ডায়রিয়া, বমি বা জ্বর হলে এবং দূষিত পানি পান করার সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

    পুনর্ব্যবহারযোগ্য পানির বোতল পরিবেশবান্ধব ও সুবিধাজনক হলেও এর পরিচ্ছন্নতা অবহেলা করা উচিত নয়। প্রতিদিন সাবান-পানি দিয়ে ধোয়া, সপ্তাহে একবার প্রতিটি অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা এবং বোতল সম্পূর্ণ শুকিয়ে রাখা—এই অভ্যাসগুলো অনুসরণ করলে বোতল ব্যবহারের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমানো সম্ভব।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ