প্রথম ফুটবলার হিসেবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস পুরস্কার জিতলেন মেসি

প্রথম ফুটবলার হিসেবে ব্যক্তিগতভাবে প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার জিতে ইতিহাস গড়েছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। তাঁর এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করেছে সাবেক ক্লাব বার্সেলোনা। অভিনন্দন জানিয়ে মেসির অসাধারণ প্রতিভা ও ফুটবলে তাঁর দীর্ঘস্থায়ী অবদানের প্রশংসা করেছে স্পেনের ক্লাবটি।
স্পেনের ওভিয়েদো শহরের ক্যাম্পোআমোর থিয়েটারে মেসির হাতে ২০২৬ সালের এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। তাঁর অর্জনের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অভিনন্দন বার্তা প্রকাশ করে বার্সেলোনা।
বিবৃতিতে ক্লাবটি লিখেছে, ‘২০২৬ সালের প্রিন্সেস অব আস্তুরিয়াস ক্রীড়া পুরস্কার জেতায় লিও মেসিকে অভিনন্দন। তোমার অসাধারণ প্রতিভার যথার্থ স্বীকৃতি এটি। মাঠে ও মাঠের বাইরে তোমার প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী ছাপ রেখে গেছে। খেলাটির প্রতি তোমার উৎকর্ষ, অঙ্গীকার ও সংহতির কারণে তুমি বিশ্ব ফুটবলের এক মানদণ্ডে পরিণত হয়েছ।’
মেসির সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথাও স্মরণ করেছে বার্সেলোনা। ক্লাবটির ভাষ্য, মেসির অত্যন্ত সফল ক্যারিয়ারে বার্সেলোনা ছিল তাঁর জীবন ও পথচলার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই অবিচ্ছেদ্য বন্ধন ক্লাবের উত্তরাধিকারের অংশ হয়ে থাকবে এবং মেসির সঙ্গে এই সম্পর্ক সব সময় তাদের গর্বের উৎস।
মাত্র ১৩ বছর বয়সে বার্সেলোনার বিখ্যাত লা মাসিয়া একাডেমিতে যোগ দেন মেসি। পরে ক্লাবটির মূল দলে কাটান ১৭টি মৌসুম। এ সময়ে একের পর এক রেকর্ড গড়ার পাশাপাশি দলকে একাধিক লা লিগা ও চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জেতাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে অসাধারণ সাফল্যের কারণে মেসি ক্লাবটির ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। ২০২১ সালে ক্লাব ছাড়ার সময় দুই পক্ষের সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হলেও সাম্প্রতিক অভিনন্দন বার্তায় মেসির প্রতি বার্সেলোনার শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটেছে।
মেসির ফুটবলীয় প্রতিভার পাশাপাশি তাঁর বিনয় ও দাতব্য কর্মকাণ্ডও এই পুরস্কারের স্বীকৃতির ক্ষেত্রে গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে এই সম্মাননা শুধু মাঠের সাফল্য নয়, বরং মাঠের বাইরেও তাঁর প্রভাব ও অবদানের মূল্যায়ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ক্যারিয়ার চলমান থাকা অবস্থায় এমন মর্যাদাপূর্ণ স্বীকৃতি পেলেন মেসি। বিশ্ব ফুটবলে তাঁর প্রভাব যে কোনো একটি ক্লাবের গণ্ডি ছাড়িয়ে বিস্তৃত, এই অর্জন তারই প্রতিফলন।
তবে পুরস্কারটি ঘিরে বিতর্কও তৈরি হয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে স্পেনের কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর স্পেনে মেসির এই সম্মান প্রত্যাহারের দাবিতে আবেদন করা হয়েছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তা সত্ত্বেও পুরস্কার প্রদানকারী ফাউন্ডেশন বিজয়ীদের তালিকায় তাঁর নাম রেখেছে।