বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • যশোর থেকে গ্রেপ্তার চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী ‘ডেভিড ইমন’ জাপানে শক্তিশালী ভূমিকম্পে বিপর্যয়, উদ্ধারকাজ অব্যাহত রেগুলেটরি দায়িত্বে গাফিলতির অভিযোগ, ডিএসইর কাছে জবাব চাইল বিএসইসি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও গর্ভপাতের অভিযোগ, যুব জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মামলা ভারত-চীনসহ রাশিয়ার জ্বালানি ক্রেতাদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপে ট্রাম্প সরোয়ার আলমগীরের এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনে বাধা নেই ‘খুব শিগগিরই ফিরতে পারব’, দেশে ফেরা নিয়ে সাকিবের আশা এনসিপির পদযাত্রায় হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবি ছাত্রশিবিরের আজ বিশ্ব বাঘ দিবস বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডির নতুন প্রধান ব্যারিস্টার মোশাররফ হোছাইন
  • বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে সওজকে নির্দেশ দিলেন প্রতিমন্ত্রী

    বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক দ্রুত সংস্কারে সওজকে নির্দেশ দিলেন প্রতিমন্ত্রী
    ছবি: সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সাম্প্রতিক টানা বর্ষণ ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য এলাকায় ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক ও মহাসড়ক দ্রুত সংস্কারের নির্দেশ দিয়েছে সরকার। সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, কোনো অবস্থাতেই দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা দীর্ঘ সময় ব্যাহত হতে দেওয়া হবে না।

    সম্প্রতি সচিবালয়ে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রতিমন্ত্রী জানান, জনগণের দুর্ভোগ কমানো এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মেরামত করা হচ্ছে।

    তিনি বলেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে অনেক স্থানে সড়কের কার্পেটিং উঠে গেছে, কোথাও সড়কের কিনারা ধসে পড়েছে, আবার কোথাও কালভার্ট ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার ক্ষতি হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির তালিকা প্রস্তুত করে জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারকাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরকে।

    প্রাথমিক মূল্যায়নে চট্টগ্রাম অঞ্চলের প্রায় ২১২ কিলোমিটার সড়ক বিভিন্ন মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সড়কের মধ্যে রয়েছে জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়ক এবং জেলা পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক। কোথাও বন্যার স্রোতে সড়ক ভেঙে গেছে, আবার কোথাও দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকায় সড়কের বিটুমিনাস স্তর নষ্ট হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর ও শিল্পাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হওয়ায় চট্টগ্রামের যোগাযোগ ব্যবস্থা সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো মেরামতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সমন্বয়ে বিশেষ তদারকি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

    তিনি জানান, প্রথম ধাপে খাদ্য, ওষুধ, জ্বালানি, ত্রাণসহ জরুরি পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত সড়কগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলা সদর, হাসপাতাল, বন্দর, শিল্পাঞ্চল, বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং গুরুত্বপূর্ণ সরকারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগকারী সড়কও অগ্রাধিকার পাচ্ছে।

    হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেন, যেসব স্থানে স্থায়ী সংস্কারে সময় লাগবে, সেখানে আপাতত অস্থায়ী মেরামতের মাধ্যমে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হবে। বর্ষা শেষে টেকসই পুনর্নির্মাণকাজ বাস্তবায়ন করা হবে।

    তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোগান্তি কমাতে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীদের ২৪ ঘণ্টা প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি রয়েছে—এমন এলাকাগুলোতে নিয়মিত নজরদারি ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

    প্রতিমন্ত্রী জানান, জরুরি সংস্কারকাজে প্রাথমিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণ তহবিল ব্যবহার করা হচ্ছে। ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব পাওয়ার পর প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত অর্থ বরাদ্দের জন্য সরকারের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হবে।

    জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিবেচনায় ভবিষ্যতে উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, অধিক উচ্চতায় সড়ক নির্মাণ, টেকসই নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার এবং নদীভাঙনপ্রবণ এলাকায় অতিরিক্ত সুরক্ষা নিশ্চিত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।

    এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত সেতু ও কালভার্টগুলোও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ঝুঁকিপূর্ণ সেতুতে ভারী যানবাহন চলাচলে সাময়িক বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

    জনসাধারণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বন্যাকবলিত ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলতে হবে। কোথাও সড়ক বা সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হলে দ্রুত স্থানীয় প্রশাসন বা সড়ক বিভাগের কর্মকর্তাদের জানালে সংস্কারকাজ আরও দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।

    তিনি আশা প্রকাশ করেন, আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে অগ্রাধিকারভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ সড়ক ও মহাসড়কের সংস্কার দ্রুত শেষ হবে এবং দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন