বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে তিন নদী, সতর্কতা নতুন এলাকাগুলোতে

ভারী বর্ষণ ও উজানের ঢলে দেশের বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির আশঙ্কা আরও বেড়েছে। বর্তমানে তিনটি নদীর চারটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি পৌঁছে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলোতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সোমবার (১৩ জুলাই) পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, সুরমা নদীর সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার, কুশিয়ারা নদীর সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ২৭ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে ৭ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে।
সকাল ৯টা পর্যন্ত দেশের ১২৭টি নদী পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৮০টিতে পানির উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যদিকে ৪৪টি স্টেশনে পানি কমেছে, দুটি স্টেশনে অপরিবর্তিত রয়েছে এবং একটি স্টেশনের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, উজানে এবং দেশের অভ্যন্তরে অব্যাহত ভারী বর্ষণের কারণে আরও কয়েকটি নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট, সিলেট সদর ও সুনামগঞ্জ পয়েন্ট, তিস্তা নদীর ডালিয়া ও কাউনিয়া পয়েন্ট এবং মুহুরী নদীর ফেনীর হরিপুর পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার খুব কাছাকাছি অবস্থান করছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে এসব এলাকায় নতুন করে বন্যা দেখা দিতে পারে।
পাউবোর তথ্যে আরও বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের মেঘালয়ের মাওকিরওয়াত এলাকায় ১১৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। একই সময়ে বাংলাদেশের মধ্যে সর্বোচ্চ ২০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে জামালপুরে।
ইতোমধ্যে টানা বৃষ্টি ও নদ-নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে দেশের অন্তত ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় ১০ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বন্যা ও বৃষ্টিজনিত বিভিন্ন দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত অন্তত ৫১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।