গ্রাহকের অর্থ নিয়ে উধাও, ফ্লাইট এক্সপার্টের ৭ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেও শত শত গ্রাহক ও সাব-এজেন্টকে প্রতিশ্রুত বিমান টিকিট সরবরাহ না করার অভিযোগে অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল প্রতিষ্ঠান ফ্লাইট এক্সপার্ট (এফইবিডি)-এর বিরুদ্ধে প্রায় ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা মানিলন্ডারিংয়ের মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মতিঝিল থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে প্রতিষ্ঠানটির সাতজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সিআইডির মিডিয়া বিভাগ।
মামলার আসামিরা হলেন— প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম, প্রেসিডেন্ট এম এ রশিদ শাহ সম্রাট, পরিচালক আমির হামজা রশিদ শাহ নায়েম, এ কে এম শাহদাত হোসেন, আব্দুল গণি মেহেদী, হেড অব ফাইন্যান্স মো. সাকীব হোসেন এবং সোমা ইন্টারন্যাশনাল সার্ভিসেস-এর স্বত্বাধিকারী মোতাহের হোসেন।
সিআইডি জানায়, ২০১৬ সালে অনলাইনে বিমান টিকিট বিক্রির মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে ফ্লাইট এক্সপার্ট। পরে হোটেল বুকিং, হজ-ওমরাহ প্যাকেজসহ বিভিন্ন ট্রাভেল সেবাও চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। ২০১৯ সালে এফইবিডি নামে নিবন্ধিত হলেও ফ্লাইট এক্সপার্ট ও এফইবিডি—দুই নামেই ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও ব্যাংক লেনদেন পরিচালনা করা হতো।
অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, প্রতিষ্ঠানটি আকর্ষণীয় মূল্যছাড়ের ঘোষণা দিয়ে দেশের বিভিন্ন সাব-এজেন্ট ও সাধারণ গ্রাহকের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অগ্রিম অর্থ সংগ্রহ করলেও অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত টিকিট সরবরাহ করেনি। এদিকে প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সালমান বিন রশিদ শাহ সায়েম ২০২৫ সালের ১ আগস্ট দেশত্যাগ করেন।
সিআইডির তথ্যমতে, এফইবিডির ব্যাংক হিসাবে জমা হওয়া অর্থ পরবর্তীতে ফ্লাইট এক্সপার্টের বিভিন্ন হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের হিসাবে অর্থ স্থানান্তর, উত্তোলন ও রূপান্তরের মাধ্যমে ওই অর্থের উৎস, মালিকানা ও প্রকৃতি গোপনের চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রমাণ মিলেছে।
তদন্তে আরও জানা গেছে, ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেশ ছাড়ার পরও কোম্পানির কয়েকজন পরিচালক ও অর্থ বিভাগের প্রধান বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব থেকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের অর্থ উত্তোলন ও স্থানান্তর করেছেন। এসব লেনদেনের মাধ্যমে প্রতারণার অর্থ আত্মসাতের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
এ ছাড়া তদন্তে দেখা গেছে, বিভিন্ন আইএটিএ অনুমোদিত ট্রাভেল এজেন্সি থেকে টিকিট সংগ্রহ করা হলেও অনেক গ্রাহকের কাছ থেকে পুরো মূল্য নেওয়ার পরও টিকিট সরবরাহ করা হয়নি। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই টিকিটের বিপরীতে একাধিক উৎস থেকে অর্থ নেওয়ার ঘটনাও শনাক্ত হয়েছে।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতারণার মাধ্যমে ৩৪ কোটি ৬৯ লাখ ৩১ হাজার ৯০ টাকা আত্মসাৎ এবং পরে ব্যাংকিং লেনদেনের মাধ্যমে সেই অর্থ স্থানান্তর, হস্তান্তর ও রূপান্তরের মাধ্যমে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে।
মামলাটির তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের স্বার্থে প্রয়োজনীয় অন্যান্য কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।