গ্রেপ্তারের পর যেভাবে দেশে আনা হবে সাবেক আইজিপি বেনজীরকে

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ। ইন্টারপোলের সহযোগিতায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ ঘটনার পর তাকে কীভাবে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া।
দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) জানায়, তার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, অর্থপাচারসহ একাধিক অভিযোগে ছয়টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে একটি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং আরেকটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম জানান, সাবেক আইজিপির বিরুদ্ধে ৭৬ কোটি টাকার বেশি অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব মামলার ভিত্তিতেই তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি এবং ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারির প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন দুবাই থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পুলিশ বিষয়টি নিশ্চিত হয়। পরে ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) রেড নোটিশসহ আন্তর্জাতিক সমন্বয় কার্যক্রম সম্পন্ন করে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইন অনুযায়ী, গ্রেপ্তারের ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠাতে হবে। সেই অনুযায়ী বাংলাদেশ দ্রুতই প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু করবে বলে জানিয়েছে সরকার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮ ধারা এবং বাংলাদেশ পাসপোর্ট অর্ডার ১৯৭৩-এর ১১ ধারায় মামলা রয়েছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।
বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ডিএমপি কমিশনার এবং র্যাবের মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় নাম ছিল।