মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • সৌরবিদ্যুতের প্রসারের আড়ালে বাড়ছে ই-বর্জ্যের ঝুঁকি, সতর্ক করছেন বিশেষজ্ঞরা টুথপেস্টে মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক, তবু এখনই আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আয়োজনের জন্য প্রস্তুত ইসি: সিইসি সম্মিলিত প্রচেষ্টায় হেপাটাইটিসমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রথমবার বঙ্গভবনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি একরাম হত্যা মামলায় সেনা হেফাজতে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন স্বর্ণালঙ্কার কিনতে স্বস্তি, কমেছে বাজারদর যাত্রীচাপ সামলাতে শাহজালালে অতিরিক্ত বিদেশি ফ্লাইট স্থগিত হেপাটাইটিস সি আক্রান্তের সংখ্যায় বিশ্বে শীর্ষ ১০ দেশের একটি বাংলাদেশ: ডব্লিউএইচও ২০১৮ সালের নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা ৩২ সাবেক ডিসির বাধ্যতামূলক অবসর
  • ঈদ সামনে, ১০ সেকেন্ডেই সব শেষ

    ঈদ সামনে, ১০ সেকেন্ডেই সব শেষ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ঈদের কেনাকাটা, পরিবার নিয়ে ঘোরাঘুরি আর প্রিয়জনের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগির প্রস্তুতির মধ্যেই রাজধানীবাসীর মনে এখন নতুন আতঙ্ক—ছিনতাই। সন্ধ্যা নামলেই ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়ক, ফুটওভার ব্রিজ, অলিগলি, বাসস্ট্যান্ড ও নির্জন এলাকায় ভয়ঙ্করভাবে সক্রিয় হয়ে উঠছে সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্র। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রাজধানীর রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করা এখন যেন বড় এক চ্যালেঞ্জ।
    নতুন কাগজ-এর অনুসন্ধানে জানা গেছে, ঈদকে কেন্দ্র করে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বেড়েছে ছিনতাইয়ের ঘটনা। বিশেষ করে অফিস শেষে বাসায় ফেরা চাকরিজীবী, নারী যাত্রী, শিক্ষার্থী, রাইড শেয়ার চালক ও একা পথচারীদের টার্গেট করছে দুর্বৃত্তরা।

    টার্গেট একা পথচারী:

    রাজধানীর মোহাম্মদপুর, শাহবাগ, মিরপুর, মালিবাগ, বাড্ডা, রামপুরা, যাত্রাবাড়ী, ফার্মগেট ও রেললাইনসংলগ্ন এলাকাগুলোতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয় ছিনতাইকারীরা। ভুক্তভোগীরা জানান, ৩ থেকে ৫ জনের দল হঠাৎ ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে মোবাইল ফোন, টাকা, ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসপত্র ছিনিয়ে নিচ্ছে।
    অনেক ক্ষেত্রে বাধা দিলে মারধর ও ছুরিকাঘাতের ঘটনা ও ঘটছে। ১০ সেকেন্ডের মধ্যেই মোটরসাইকেল কিংবা অন্ধকার গলিপথ ব্যবহার করে পালিয়ে যাচ্ছে দুর্বৃত্তরা।
    রাজধানীর এক বেসরকারি চাকরিজীবী বলেন,
    “বাসা ফেরার পথে হঠাৎ তিনজন যুবক আমাকে ঘিরে ধরে। একজন চাকু ঠেকিয়ে মোবাইল ও টাকা নিয়ে যায়। পুরো ঘটনা ৮/৯ সেকেন্ডের।”
    এক নারী যাত্রী জানান,
    “ফুটওভার ব্রিজে উঠতেই দুইজন ছেলে ব্যাগ টান দেয়। চিৎকার করলে দ্রুত পালিয়ে যায় তারা। এখন সন্ধ্যার পর বের হতেও ভয় লাগে।”

    রাত বাড়লেই বাড়ছে আতঙ্ক:

    অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে। অন্ধকার সড়ক, কম জনসমাগম ও দুর্বল নজরদারির সুযোগ নিচ্ছে অপরাধীরা।
    বিশেষ করে ফুটওভার ব্রিজ, বাসস্ট্যান্ড, রেললাইনসংলগ্ন এলাকা ও আধা-নির্জন সড়কগুলো এখন সাধারণ মানুষের কাছে আতঙ্কের জায়গায় পরিণত হয়েছে। অনেক এলাকাতেই পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা না থাকায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে।

    কিশোর গ্যাংয়ের দৌরাত্ম্য:

    অপরাধ বিশ্লেষকদের মতে, রাজধানীর ছিনতাইয়ের বড় একটি অংশ এখন নিয়ন্ত্রণ করছে কিশোর গ্যাং। সহজে টাকা আয়, মাদকাসক্তি এবং অপরাধী চক্রের প্রভাবে জড়িয়ে পড়ছে অনেক কিশোর।
    ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধবিজ্ঞান বিভাগের এক শিক্ষক বলেন,
    “ছিনতাই এখন শুধু বিচ্ছিন্ন অপরাধ নয়, অনেক ক্ষেত্রে এটি সংঘবদ্ধ অপরাধচক্রের নিয়ন্ত্রিত কর্মকাণ্ডে পরিণত হয়েছে। কিশোর গ্যাং, মাদকাসক্ত ও পেশাদার অপরাধীরা একসঙ্গে কাজ করছে।”
    নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, দ্রুত গ্রেপ্তার ও কার্যকর বিচার না হওয়ায় অপরাধীদের মধ্যে তৈরি হচ্ছে দায়মুক্তির সংস্কৃতি।
    একজন সাবেক আইনশৃঙ্খলা কর্মকর্তা বলেন,
    “অনেক ছিনতাইকারী জানে, গ্রেপ্তার হলেও দ্রুত জামিন পেয়ে যাবে। এই মানসিকতাই অপরাধ বাড়ার বড় কারণ।”
    পুলিশের দাবি, চলছে অভিযান
    আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলছেন, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে। বাড়ানো হয়েছে টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি।
    তবে সাধারণ মানুষের অভিযোগ, দৃশ্যমান কঠোরতা না থাকায় পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হচ্ছে না। অনেক এলাকায় পুলিশি টহল সীমিত থাকায় সন্ধ্যার পর আতঙ্ক নিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে মানুষকে।
    নগরবাসীর দাবি, শুধু অভিযান নয়—ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী নজরদারি, কার্যকর সিসিটিভি মনিটরিং এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

    সামাজিক জীবনে প্রভাব:

    ছিনতাই আতঙ্কে রাজধানীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও প্রভাবিত হচ্ছে। সন্ধ্যার পর পরিবার নিয়ে বাইরে যেতে ভয় পাচ্ছেন অনেকে। নারী ও শিক্ষার্থীদের চলাচলেও তৈরি হয়েছে অনিরাপত্তা।
    ব্যবসায়ীরা বলছেন, রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কমে যাচ্ছে মানুষের উপস্থিতি। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাতের অর্থনীতি ও ব্যবসা-বাণিজ্যও।

    বিশেষজ্ঞদের মতামত:

    অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু পুলিশি অভিযান দিয়ে এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। দীর্ঘমেয়াদে কিশোর গ্যাং দমন, মাদক নিয়ন্ত্রণ, বেকার তরুণদের কর্মসংস্থান এবং প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
    তাদের ভাষ্য, রাজধানীর ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোতে পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, সিসিটিভি নেটওয়ার্ক ও সাদা পোশাকে নজরদারি বাড়ানো গেলে ছিনতাই অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

    নিরাপদ শহরের অপেক্ষায় নগরবাসী:

    ঈদের আনন্দের প্রস্তুতির মধ্যে ও রাজধানীবাসীর বড় প্রশ্ন এখন একটাই—ঢাকার  রাস্তায় মানুষ কবে নিরাপদে চলাচল করতে পারবে?
    রাত নামলেই আতঙ্ক। নিরাপত্তাহীনতার নগরীতে পরিণত হওয়া রাজধানীতে এখন সাধারণ মানুষের একমাত্র চাওয়া—নিরাপদে ঘরে ফেরার নিশ্চয়তা।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন