রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে হিবিসকাস বা রোজেলা চা

সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে ভেষজ চায়ের গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে হিবিসকাস বা রোজেলা চা বর্তমানে এর উচ্চ পুষ্টিমান ও ওষধি গুণের কারণে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত। এতে থাকা পলিফেনল এবং অ্যান্থোসায়ানিনসহ নানা উদ্ভিজ্জ যৌগ শরীরের ক্ষতিকর ফ্রি র্যাডিক্যালকে নিষ্ক্রিয় করতে অত্যন্ত কার্যকর। নিয়মিত এই অ্যান্টিঅক্সিডেন্টসমৃদ্ধ পানীয় গ্রহণ করলে শরীরের স্বাভাবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী হয় এবং বার্ধক্যজনিত কোষের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।
যেসব রোগের ঝুঁকি কমাতে হিবিসকাস চা উপকারী
গবেষণার পদ্ধতি ও প্রস্তুত প্রণালী ভেদে ফলের ভিন্নতা থাকলেও, সাধারণত নিম্নলিখিত ক্ষেত্রে এটি বিশেষ উপকারী:
-
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ: নিয়মিত রোজেলা চা পানে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রায় রাখতে সাহায্য করে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়।
-
অ্যান্টি-এজিং ও কোষের সুরক্ষা: এর উচ্চমাত্রার অ্যান্থোসায়ানিন বার্ধক্যের ছাপ দূর করে এবং শরীরের কোষগুলোকে দীর্ঘস্থায়ী ক্ষতি থেকে রক্ষা করে।
-
হৃদরোগ প্রতিরোধ: এটি শরীরে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করে এবং ধমনির স্বাস্থ্য ভালো রাখে।
-
লিভারের সুরক্ষা: গবেষণায় দেখা গেছে, হিবিসকাসের নির্যাস লিভারের চর্বি জমা কমাতে এবং লিভারের কার্যকারিতা সচল রাখতে সাহায্য করতে পারে।
-
ওজন নিয়ন্ত্রণ: বিপাক ক্রিয়া উন্নত করার মাধ্যমে এটি শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
-
প্রদাহনাশক: শরীরের অভ্যন্তরীণ প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন কমাতে এই চায়ের পলিফেনল উপাদানগুলো কাজ করে।
গ্রিন টি বনাম হিবিসকাস
পুষ্টিবিজ্ঞান বিষয়ক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, হিবিসকাসে যেমন উচ্চমাত্রার অ্যান্থোসায়ানিন থাকে, তেমনি গ্রিন টি-তেও ক্যাটেচিনের মতো শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এই উভয় পানীয়ই শরীরের জন্য সমান গুরুত্বপূর্ণ এবং একে অপরের পরিপূরক হিসেবে কাজ করতে পারে।
দৈএনকে/জে, আ