বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের নির্ভুল তালিকা তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে সরকার সময়মতো খেলা শুরু নিয়ে অনিশ্চয়তা দেশজুড়ে মৌলিক সুবিধা বিস্তারের পরিকল্পনা সরকারের হজে গিয়ে আরও এক মৃত্যু, সৌদিতে পৌঁছেছেন ৩৮,২০৭ যাত্রী পদত্যাগের পরও ৬ মাস ভিভিআইপি থাকবেন রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রী-প্রধান উপদেষ্টা স্বর্ণার ফিফটির পরও জয় হাতছাড়া বাংলাদেশের ভারতীয় ভিসা জটিলতা কমবে শিগগিরই: সংসদে পররাষ্ট্রমন্ত্রী পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের দ্বার খুলল, রূপপুরে ফুয়েল লোডিং শুরু হঠাৎ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি এনসিপি নেতা সারজিস আলম মোহাম্মদপুরে গ্যাং সহিংসতা, আধিপত্য বিস্তারের লড়াইয়ে বাড়ছে হত্যাকাণ্ড
  • বাবা-মায়ের চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব ও করণীয়

    বাবা-মায়ের চলে যাওয়ার পর দায়িত্ব ও করণীয়
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাবা-মায়ের চলে যাওয়া মানে মাথার ওপর থেকে বিশাল এক ছায়া সরে যাওয়া। তবে তাঁদের মৃত্যুর মাধ্যমেই সন্তানের দায়িত্ব শেষ হয়ে যায় না; বরং তাঁদের পরকালীন শান্তির জন্য সন্তানের কিছু বিশেষ করণীয় রয়েছে।

    ১. ধৈর্য ধারণ ও দোয়া করা

    শোকের মুহূর্তে নিজেকে সামলে রাখা কঠিন, তবুও আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করা প্রথম কাজ। বাবা-মায়ের জন্য সবচেয়ে বড় উপহার হলো সন্তানের দোয়া। পবিত্র কোরআনে শেখানো এই দোয়াটি বেশি বেশি পড়া উচিত:

    “রাব্বির হামহুমা কামা রাব্বায়ানি সাগিরা।” (হে আমার পালনকর্তা, তাঁদের উভয়ের প্রতি দয়া করুন যেভাবে তাঁরা আমাকে শৈশবে লালন-পালন করেছেন)।

    ২. ঋণ পরিশোধ করা

    বাবা-মা যদি কারো কাছে ঋণী থাকেন, তবে দ্রুত তা পরিশোধের ব্যবস্থা করা সন্তানের প্রধান দায়িত্ব। ঋণ রেখে মারা গেলে বিদেহী আত্মার কষ্ট হয়। এছাড়া তাঁদের কোনো ওয়াদা বা মানত থাকলে তাও পূরণ করা উচিত।

    ৩. ক্ষমা প্রার্থনা (ইস্তিগফার)

    তাঁদের জীবনের ভুলভ্রান্তির জন্য আল্লাহর কাছে প্রতিনিয়ত ক্ষমা চাওয়া। সন্তান যদি আল্লাহর কাছে বাবা-মায়ের জন্য চোখের পানি ফেলে ক্ষমা চায়, তবে আল্লাহ তাঁদের মর্যাদা বাড়িয়ে দেন।

    ৪. সাদকায়ে জারিয়া ও দান-সদকা

    তাঁদের পক্ষ থেকে অভাবী মানুষকে খাবার দেওয়া, এতিমখানায় দান করা, মসজিদ নির্মাণে সহায়তা করা বা মানুষের উপকারে আসে এমন কোনো কাজ করা। এই সওয়াব তাঁদের কবরে পৌঁছাবে। একটি গাছ লাগানো বা একটি পানির কুয়া খনন করাও বড় সাদকা হতে পারে।

    ৫. বাবা-মায়ের আত্মীয় ও বন্ধুদের সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখা

    বাবা-মায়ের মৃত্যুর পর তাঁদের ভাই-বোন (চাচা, মামা, খালা, ফুফু) এবং ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা এবং যোগাযোগ রাখা তাঁদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের একটি অন্যতম মাধ্যম। এটি তাঁদের আত্মাকে শান্তি দেয়।

    ৬. অসিয়ত পূরণ করা

    বাবা-মা যদি শরিয়তসম্মত কোনো অসিয়ত বা ইচ্ছার কথা বলে গিয়ে থাকেন, তবে তা পূরণ করা সন্তানদের নৈতিক দায়িত্ব।

    ৭. কবরে জিয়ারত করা

    সুযোগ পেলে বাবা-মায়ের কবর জিয়ারত করা এবং সেখানে গিয়ে তাঁদের জন্য দোয়া করা সুন্নত। এটি নিজের আখেরাতের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় এবং মৃত ব্যক্তির প্রতি ভালোবাসা প্রকাশ পায়।


    উপসংহার

    বাবা-মা আমাদের জন্য সারা জীবন কষ্ট করেছেন। তাঁদের মৃত্যুর পর আমরা যদি সৎ পথে চলি এবং মানুষের সেবা করি, তবে সেই প্রতিটি ভালো কাজের সওয়াব আমাদের বাবা-মা কবরে শুয়েও পাবেন। তাই নিজেকে একজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলাই তাঁদের প্রতি শ্রেষ্ঠ সম্মান।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন