হামের উপসর্গে বাড়ছে রোগী, হাসপাতালে ভর্তি ৭৩ জন

লক্ষ্মীপুরে হামের উপসর্গ নিয়ে সরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। বর্তমানে জেলাজুড়ে ৭৩ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন, যার মধ্যে বড় একটি অংশই শিশু। বিশেষ করে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালেই ৫৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন। ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত রোগী হওয়ায় শয্যা সংকটে অনেককে হাসপাতালের মেঝে, বারান্দা ও সিঁড়ির পাশে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল, ২০২৬) সকালে জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ৩ মাসে জেলায় মোট ৪১১ জন রোগী হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ১৯ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং ৩৩৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে রামগঞ্জে হামে আক্রান্ত এক শিশু ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৭৩ জনের অবস্থান:
সদর হাসপাতাল: ৫৮ জন
রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৭ জন
কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ৬ জন
রামগতি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: ২ জন
সদর হাসপাতালটি ১০০ শয্যার হলেও সেখানে সবসময় ৩০০-৩৫০ জন রোগী ভর্তি থাকে। অতি সংক্রামক হামের উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের জন্য মাত্র ১০ শয্যার একটি আইসোলেশন ওয়ার্ড রয়েছে। ফলে সিংহভাগ রোগীকে হাসপাতালের মেঝে ও সিঁড়ির পাশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে অবস্থান করতে হচ্ছে।
চিকিৎসকদের মতে, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। সাধারণত ৪ মাস থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুরা এতে বেশি আক্রান্ত হয়। শিশু বিশেষজ্ঞ সহকারী অধ্যাপক ডা. মোরশেদ আলম হিরু জানান, বর্তমানে ভর্তি হওয়া রোগীরা আশঙ্কামুক্ত এবং তাদের নিয়মিত চিকিৎসা চলছে।
সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. অরূপ পাল বলেন, "সময়মতো চিকিৎসা ও সঠিক যত্ন নিলে এ রোগ থেকে সুস্থ হওয়া সম্ভব। তবে অভিভাবকদের সচেতন হতে হবে এবং শিশুদের নিয়মিত টিকাদান নিশ্চিত করতে হবে।"
লক্ষ্মীপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা. আবু হাসান শাহীন জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে কারও হাম শনাক্ত না হলেও উপসর্গ নিয়ে আসা রোগীদের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।