বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • সংসদে কেনাকাটায় বিশাল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

    সংসদে কেনাকাটায় বিশাল আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    জাতীয় সংসদের জন্য ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম কেনাকাটায় ব্যাপক অনিয়ম ও মূল্যবৈষম্যের অভিযোগ উঠেছে। বাজারমূল্যের তুলনায় কয়েকগুণ বেশি দামে নিম্নমানের পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলে অভিযোগ সংশ্লিষ্টদের।

    জানা গেছে, প্রায় ৪ হাজার টাকার একটি ব্যাগের জন্য বিল করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪০০ টাকা। একইভাবে প্রায় ৩ হাজার টাকার একটি কার্ড রিডারের দাম ধরা হয়েছে ২১ হাজার ৫০০ টাকা। একটি ডিজিটাল স্টিল ক্যামেরার বডি, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩ লাখ ৩৮ হাজার টাকা, সেটি কেনা হয়েছে ৭ লাখ ৯ হাজার ৫০০ টাকায়। চারটি ক্যামেরা বডির জন্য মোট ব্যয় দেখানো হয়েছে ২৮ লাখ ৩৮ হাজার টাকা।

    সব মিলিয়ে ক্যামেরা সেট ক্রয়ে সরকারের কাছ থেকে নেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ৪৪ হাজার ১৩০ টাকা, যেখানে সংশ্লিষ্টদের মতে প্রকৃত বাজারমূল্য ২০ লাখ টাকারও কম।

    এ কেনাকাটায় মোট ১২ ধরনের আইটেম অন্তর্ভুক্ত ছিল। বিভিন্ন ফোকাল লেন্থের ক্যামেরা লেন্স, স্পিডলাইট (ফ্ল্যাশ), মেমোরি কার্ড, ব্যাটারি ও অন্যান্য সরঞ্জাম কেনা হয়েছে অতিরিক্ত দামে। উদাহরণ হিসেবে, ২৪-৭০ এমএম লেন্স প্রতিটি ১ লাখ ২৪ হাজার ৭০০ টাকায় কেনা হলেও বাজারমূল্য সর্বোচ্চ ৭৮ হাজার টাকা। আবার ১০০-৪০০ এমএম লেন্স কেনা হয়েছে ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকায়, যার বাজারমূল্য প্রায় অর্ধেকেরও কম।

    এছাড়া স্পিডলাইট (ফ্ল্যাশ), মেমোরি কার্ড ও ব্যাটারির ক্ষেত্রেও একই ধরনের মূল্যবৈষম্যের অভিযোগ রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে নির্ধারিত ব্র্যান্ডের পরিবর্তে নিম্নমানের অন্য পণ্য সরবরাহ করা হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

    এই সরঞ্জামগুলো সরবরাহ করেছে ‘সেফ ট্রেডার্স’ নামের একটি প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, দামি ব্র্যান্ড, ভ্যাট ও ট্যাক্সের কারণে খরচ বেশি হয়েছে। তবে বাজারমূল্যের সঙ্গে বড় পার্থক্য এবং পণ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তারা কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেনি।

    সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একটি কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই কেনাকাটা সম্পন্ন হয়েছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি তড়িঘড়ি করে সম্পন্ন করা হয়েছে এবং এতে উচ্চপর্যায়ের তত্ত্বাবধান ছিল।

    ফটোগ্রাফি সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতে, সংসদ অধিবেশন কক্ষের ছবি তোলার জন্য এত ব্যয়বহুল সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই। তুলনামূলক কম দামের সরঞ্জাম দিয়েই ভালো মানের ছবি তোলা সম্ভব।

    সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় এই কেনাকাটায় বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন