কাঁচা আমের মৌসুমে জিভে জল আনা আম কাসুন্দি

গ্রীষ্মের তপ্ত দুপুরে ভাতের সাথে এক চামচ আম কাসুন্দি কিংবা বিকেলের ভাজাভুজিতে এর সঙ্গ—ভোজনরসিক বাঙালির জন্য এক স্বর্গীয় অনুভূতি। মূলত সরিষা আর কাঁচা আমের এই চাটনি কেবল মুখরোচকই নয়, এটি হজমেও বেশ সহায়ক। ঘরে থাকা খুব সাধারণ কিছু উপকরণ দিয়ে কীভাবে নিখুঁত আম কাসুন্দি তৈরি করবেন, তা জেনে নিন আজকের প্রতিবেদনে।
প্রয়োজনীয় উপকরণ
-
কাঁচা আম: ২ টি (মাঝারি আকার, খোসা ছাড়িয়ে টুকরো করা)।
-
সরিষা: সাদা সরিষা ২ টেবিল চামচ ও কালো সরিষা ১ টেবিল চামচ।
-
মরিচ: শুকনা লাল মরিচ ২-৩টি এবং কাঁচা মরিচ ২-৩টি (ঝাল অনুযায়ী)।
-
মসলা ও অন্যান্য: রসুন ৪-৫ কোয়া, হলুদ গুঁড়া আধা চা চামচ, লবণ স্বাদমতো এবং চিনি ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)।
-
সংরক্ষণক: সরিষার তেল ৩-৪ টেবিল চামচ এবং ভিনেগার (সিরকা) ১-২ টেবিল চামচ।
প্রস্তুত প্রণালি
১. সরিষা প্রস্তুত করা: প্রথমে সাদা ও কালো সরিষা ভালো করে ধুয়ে ১-২ ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এতে সরিষার তিতা ভাব কমে এবং পেস্ট মসৃণ হয়।
২. মিহি পেস্ট তৈরি: ভেজানো সরিষা, শুকনা মরিচ, কাঁচা মরিচ, রসুন এবং সামান্য পানি দিয়ে ব্লেন্ডারে একটি মিহি পেস্ট তৈরি করে নিন।
৩. আমের সাথে সংমিশ্রণ: একটি বড় বাটিতে কুঁচি করা বা টুকরো কাঁচা আম নিন। এতে আগে থেকে তৈরি করা সরিষার পেস্ট, হলুদ গুঁড়া, লবণ ও চিনি দিয়ে খুব ভালো করে মেখে নিন যেন প্রতিটি আমের গায়ে মসলা পৌঁছায়।
৪. সংরক্ষণ ও ফিনিশিং: সবশেষে সরিষার তেল ও ভিনেগার যোগ করে আবার মিশিয়ে নিন। ভিনেগার আচারকে দীর্ঘস্থায়ী করতে এবং তেলের ঝাঁঝ বজায় রাখতে সাহায্য করে।
৫. রোদে দেওয়া: মিশ্রণটি পরিষ্কার ও শুকনো কাঁচের বোতলে ভরে ২-৩ দিন কড়া রোদে দিন। মাঝে মাঝে বোতলটি ঝাঁকিয়ে দিন যাতে তেল ও মশলা সব জায়গায় সমানভাবে পৌঁছায়।
সংরক্ষণ টিপস
-
আম কাসুন্দি তৈরির সময় বা বোতলে ভরার সময় চামচ যেন একদম শুকনো থাকে। পানির সংস্পর্শে এলে আচার দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
-
দীর্ঘ সময় সতেজ ও ঝাঁঝালো রাখতে আচারটি ফ্রিজে সংরক্ষণ করা সবচেয়ে উত্তম।