নিয়োগ ও পদোন্নতি সংস্কারে বাধা দিয়ে ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ পিডিবিএফের সাবেক এমডি!

পল্লী দারিদ্র্য বিমোচন ফাউন্ডেশন (পিডিবিএফ)-এ নিয়োগ ও পদোন্নতি নিয়ে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব এবং সিন্ডিকেটের সঙ্গে সংঘাতের জেরে সংস্থাটির সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও যুগ্মসচিব মো. মাহমুদ হাসান ‘ষড়যন্ত্রের শিকার’ হয়েছেন কি না—এ নিয়ে প্রশাসনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে প্রায় ১,৬৬৫ জন নিয়োগ ও ১,০৫২ জনের পদোন্নতি প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি অনিয়ম ও নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধে কঠোর অবস্থান নেন, যা থেকেই তার বিরুদ্ধে পাল্টা অপপ্রচারের অভিযোগ উঠেছে।
২০২৪ সালের নভেম্বরে প্রেষণে পিডিবিএফের এমডি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় নিয়োগ ও পদোন্নতি সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেন বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। এতে আগের অনিয়মে জড়িত একটি চক্র ক্ষুব্ধ হয়ে তার বিরুদ্ধে বেনামি অভিযোগ ও গণমাধ্যমে প্রচারণা চালাচ্ছে—এমন দাবি করা হয়েছে পিডিবিএফের কিছু কর্মকর্তার পক্ষ থেকে।
অন্যদিকে, দুর্নীতির অভিযোগে দণ্ডপ্রাপ্ত এক কর্মচারীর অভিযোগকে কেন্দ্র করেও বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় আসে। অভিযোগকারী ওই কর্মচারীকে আগেই চাকরিচ্যুত করেছিলেন মাহমুদ হাসান। পরে সেই কর্মচারীর অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে, সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের সমাজকল্যাণ উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ দাবি করেছিলেন, তার একান্ত সচিব (পিএস) থাকাকালীন মাহমুদ হাসানের কর্মকাণ্ডে তিনি ‘বিব্রত’ ছিলেন এবং কিছু অনিয়মের অভিযোগও ওঠে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বা নির্দিষ্ট প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।
অন্যদিকে সাবেক সচিব আবু হেনা মোরশেদ জামান অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এগুলো এখনো প্রমাণহীন এবং তদন্ত ছাড়া কাউকে দোষী বলা ঠিক নয়। তার মতে, নির্দিষ্ট কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
মাহমুদ হাসান অবশ্য সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, পিডিবিএফে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের নিয়োগ বাণিজ্য বন্ধ করায় তাকে পরিকল্পিতভাবে বিতর্কিত করা হচ্ছে। তার দাবি, দায়িত্ব পালনকালে তিনি স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার চেষ্টা করেছেন।
চলমান এই টানাপোড়েনের মধ্যে তাকে একাধিকবার বদলি করা হয়। পরে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাকে পুনরায় পদায়নের জন্য সুপারিশও আসে, তবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তদন্ত চলমান থাকায় আপাতত পদায়নে আপত্তি জানায়।
প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা সরকারি দপ্তরে নিয়োগ ও পদোন্নতি প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, সিন্ডিকেট প্রভাব এবং প্রশাসনিক জবাবদিহির প্রশ্নকে আবারও সামনে এনেছে। প্রকৃত সত্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের প্রয়োজনীয়তা এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।