আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তুষ্ট পরিবার

জুলাই অভ্যুত্থানে নিহত রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যা মামলার রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে তার পরিবার।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই মামলার রায় ঘোষণা করে। রায়ে দুই পুলিশ সদস্য—আমির হোসেন ও সুজন চন্দ্র রায়কে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষককে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড, নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়াকে ১০ বছরের কারাদণ্ড, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর শরিফুল ইসলামকে ৫ বছরের কারাদণ্ডসহ অন্যান্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা প্রদান করা হয়।
তবে এই রায়ে সন্তুষ্ট নয় নিহত আবু সাঈদের পরিবার। তার বাবা বলেন, “যাদের নির্দেশে আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে, তারা তো বেঁচে গেল। এই হত্যার সঙ্গে জড়িত বড় বড় অপরাধীদের কোনো শাস্তি হয়নি। আমি কঠোর ও পূর্ণাঙ্গ বিচার চাই।”
পরিবারের অভিযোগ, কেবল দুই পুলিশ সদস্যকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে মামলাটি শেষ করার চেষ্টা করা হয়েছে। তারা মনে করেন, প্রকৃত নির্দেশদাতারা এখনো বিচারের আওতার বাইরে রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাষ্ট্রীয় সহায়তা পেলে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন আবু সাঈদ। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয় এবং আন্দোলন আরও বেগবান হয়ে ওঠে।