বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • প্যানিক অ্যাটাক কি শুধুই মনের ভয় নাকি শারীরিক সতর্কবার্তা?

    প্যানিক অ্যাটাক কি শুধুই মনের ভয় নাকি শারীরিক সতর্কবার্তা?
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    হঠাৎ বুক ধড়ফড় শুরু হলো, মনে হচ্ছে দম বন্ধ হয়ে আসছে। চারপাশের সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও আপনার ভেতরটা যেন কাঁপিয়ে দিচ্ছে এক অদ্ভুত অজানা আতঙ্ক। মনের কোণে বারবার প্রশ্ন জাগছে— "আমার কি হার্ট অ্যাটাক হচ্ছে?" বা "আমি কি মারা যাচ্ছি?"।

    এই অসহ্য অনুভূতিটি অনেকের কাছেই পরিচিত, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘প্যানিক অ্যাটাক’। এটি কেবল নিছক কোনো ভয় নয়, বরং বছরের পর বছর জমে থাকা মানসিক চাপ, না বলা কথা এবং দীর্ঘস্থায়ী দুশ্চিন্তার এক তীব্র শারীরিক বহিঃপ্রকাশ। আপনার মন যখন আর চাপের ভার সইতে পারে না, শরীর তখন এভাবেই তার জানান দেয়।

    লক্ষণগুলো যখন বিভীষিকা হয়ে দাঁড়ায় বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যানিক অ্যাটাকের সময় আক্রান্ত ব্যক্তি শারীরিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। এর সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো:

    • হঠাৎ দ্রুত হার্টবিট বা বুক ধড়ফড় করা।

    • নিশ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া বা বুকের ওপর বিশাল পাথর চেপে বসার মতো অনুভূতি।

    • মাথা ঘোরা, শরীর দুর্বল হয়ে পড়া এবং হাত-পা ঠান্ডা হয়ে আসা।

    • অতিরিক্ত ঘাম এবং শরীর কাঁপতে থাকা।

    • "আমি নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছি" এমন এক তীব্র মৃত্যুভয়।

    ভেতরের কষ্ট যখন অদেখা প্যানিক অ্যাটাকের সবচেয়ে বড় ট্র্যাজেডি হলো, বাইরে থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সম্পূর্ণ স্বাভাবিক দেখায়। অথচ সেই মানুষটি প্রতি মুহূর্তে লড়াই করেন একা থাকার ভয়, বাইরে যাওয়ার অস্বস্তি কিংবা রাতে ঘুমাতে যাওয়ার অনীহার সাথে। একটি ছোট্ট ‘ট্রিগার’ থেকেই শুরু হতে পারে এই মানসিক ঝড়।

    উত্তরণের পথ: আপনি একা নন চিকিৎসকরা বলছেন, প্যানিক অ্যাটাক মানেই আপনি দুর্বল নন। আপনার শরীর ও মন কেবল অতিরিক্ত চাপের মধ্যে আছে। এমন পরিস্থিতিতে কিছু তাৎক্ষণিক ও দীর্ঘমেয়াদী পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি:

    ১. গভীর শ্বাস নিন: বুক ভরে শ্বাস নিয়ে ধীরে ধীরে ছাড়ুন। নিজেকে বারবার মনে করিয়ে দিন— “এটি সাময়িক, এটি দ্রুতই চলে যাবে।”

    ২. জীবনযাত্রায় পরিবর্তন: অতিরিক্ত চা বা কফি (ক্যাফেইন) এড়িয়ে চলা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করা।

    ৩. অনুভূতি ভাগ করে নেওয়া: মনের জমানো কষ্টগুলো চেপে না রেখে বিশ্বস্ত কারো সাথে শেয়ার করুন। প্রয়োজনে পেশাদার কাউন্সিলরের পরামর্শ নিন।

    আজ হয়তো আপনার দিনটি খুব কঠিন যাচ্ছে, কিন্তু এর মানে এই নয় যে জীবনটা সবসময় এমনই থাকবে। নিজের অনুভূতিগুলোকে অবহেলা না করে সঠিক যত্ন নিলে এই অদৃশ্য ঝড় কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। মনে রাখবেন, অন্ধকার টানেলের শেষে আলোর রেখা সবসময়ই থাকে।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ