ভূমিকম্পের ৯০ সেকেন্ড আগে সতর্ক করবে ‘ভুবন’

ভূমিকম্প, এক অজানা ও ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক দুর্যোগ। যদিও এটি এড়ানো সম্ভব নয়, তবে এর পূর্বাভাস দিয়ে বড় ধরনের ক্ষতি কমানো সম্ভব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মোল্লা উদ্ভাবন করেছেন একটি অত্যাধুনিক ডিভাইস, যার নাম ‘ভুবন’, যা ভূমিকম্পের ২০ থেকে ৯০ সেকেন্ড আগেই সতর্ক সংকেত দেয়।
শুধু ফেব্রুয়ারি মাসেই দেশজুড়ে অন্তত ১০টি ভূমিকম্প ঘটেছে, যা সাধারণ মানুষ ও বিশেষজ্ঞদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। বর্তমানে ভূমিকম্পের পূর্বাভাস দেওয়ার প্রযুক্তি নেই, তাই ক্ষয়ক্ষতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়াই একমাত্র ভরসা। এই পরিস্থিতিতে ইব্রাহিম মোল্লার উদ্ভাবন একটি আলো আলো করছে।
ড্যাফোডিল ইনস্টিটিউট অব আইটির শিক্ষার্থী ইব্রাহিম মোল্লা বলেন,
“পৃথিবীর কিছু পশু-পাখি ভূমিকম্পের আগে বুঝতে পারে। তারা মূলত প্রাইমারি ওয়েভ শনাক্ত করতে পারে। আমাদের ডিভাইসও ঠিক সেই প্রাইমারি ওয়েভ শনাক্ত করতে সক্ষম। যখন প্রাইমারি ওয়েভ শনাক্ত হবে, তখন ডিভাইসটি সাইরেন বাজাবে। আমরা যে ঝাঁকুনি অনুভব করি তা মূলত সেকেন্ডারি ওয়েভের কারণে। ডিভাইসের সতর্কবার্তা সেই ঝাঁকুনি আসার আগেই প্রদান করবে। সতর্কবার্তাটি ৩০ সেকেন্ড ধরে চলবে।”
ইব্রাহিম মোল্লার উদ্ভাবিত এই ডিভাইসটি কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ নয়; ইন্ডাস্ট্রিয়াল টেস্টিং-এ এর কার্যকারিতা প্রায় শতভাগ সফল। তিনি চাইছেন, এই ডিভাইসটি সরকারকে বিনামূল্যে উপহার হিসেবে প্রদান করা হোক, যা দেশের ভূমিকম্প মোকাবিলায় বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।
তিনি আরও বলেন,
“বর্তমানে ডিভাইসটি সেই জায়গায় স্থাপন করা সম্ভব যেখানে সতর্কবার্তা পাওয়া যাবে। তবে যদি আমরা এটি ফ্রন্টলাইনে মাটির নিচে স্থাপন করি, তাহলে ৩০ সেকেন্ডের বদলে ২ মিনিট আগেই সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব হবে। ফ্রন্টলাইনে ডিভাইস বসিয়ে ঢাকা শহরে সাইরেন স্থাপন করলে একটি ইন্টারনাল সিস্টেম তৈরি করা সম্ভব। আমাদের প্রযুক্তি প্রস্তুত, সরকার চাইলে আমরা এটি দেশের মানুষের স্বার্থে বিনামূল্যে দেব, ইনশাআল্লাহ।”
ইব্রাহিম মোল্লা ইতিমধ্যেই বুয়েট ও এমআইএসটি থেকে স্বীকৃতি এবং পুরস্কার পেয়েছেন। তরুণ উদ্ভাবকের আশা, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় ডিভাইসটি বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করা হোক, যা বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবে।