বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • ফ্যাটি লিভার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়

    ফ্যাটি লিভার: কারণ, লক্ষণ ও করণীয়
    ছবি: এআই
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ফ্যাটি লিভার (Fatty Liver) হলো এক ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা যেখানে যকৃৎ (লিভার) কোষে অতিরিক্ত চর্বি জমে যায়। এটি একটি ধীরগতির সমস্যা এবং প্রাথমিক পর্যায়ে সাধারণত কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না। তবে untreated থাকলে এটি লিভারের প্রদাহ, ফাইব্রোসিস (স্কারিং), সিরোসিস বা এমনকি লিভার ফেইলিওর পর্যন্ত যেতে পারে।

    ফ্যাটি লিভার দুই ধরনের হয়:

    ১. অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার (AFLD) – অতিরিক্ত মদ্যপানজনিত।

    ২. নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার (NAFLD) – অ্যালকোহল ছাড়াই, সাধারণত ওজন, ডায়াবেটিস বা খারাপ খাদ্যাভ্যাসের কারণে।

    ফ্যাটি লিভারের কারণ

    ১. অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস:

    • ভাজা ও তেলযুক্ত খাবার, ফাস্টফুড, অতিরিক্ত চিনি ও প্রসেসড খাবার।

    ২. ওজন বৃদ্ধি ও স্থূলতা:

    • অতিরিক্ত বডি ফ্যাট লিভারে চর্বি জমাতে সাহায্য করে।

    ৩. ডায়াবেটিস ও ইনসুলিন প্রতিরোধ:

    • হাই ব্লাড সুগার লিভারে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়ায়।

    ৪. হাই কোলেস্টেরল ও হাই ট্রাইগ্লিসারাইড:

    • অতিরিক্ত লিপিড লিভার ক্ষতি করতে পারে।

    ৫. অ্যালকোহল সেবন:

    • অ্যালকোহল লিভারের কোষকে ধ্বংস করে এবং চর্বি জমায়।

    ৬. অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যা:

    • হেপাটাইটিস, কিছু ওষুধ (যেমন স্টেরয়েড, ক্যান্সার ওষুধ), হরমোন সমস্যা।

    লক্ষণ

    • ক্লান্তি ও দুর্বলতা
    • ডানপাশ উপরের পেটে হালকা ব্যথা বা অস্বস্তি
    • হঠাৎ ওজন বৃদ্ধি বা কমে যাওয়া
    • ত্বক ও চোখের পিলিং (যক্ষ্মা নয়, কিন্তু কিছু ক্ষেত্রে হলুদাভ ভাব)
    • লিভারের রক্ত পরীক্ষা (ALT, AST) অস্বাভাবিক দেখাতে পারে

    নির্ণয় ও পরীক্ষা

    ফ্যাটি লিভার প্রাথমিকভাবে অনেক সময় লক্ষণহীন। নির্ণয়ের জন্য সাধারণত নিচের পরীক্ষা করা হয়:

    ১. রক্ত পরীক্ষা: লিভারের ফাংশন (LFT – ALT, AST, ALP)

    ২. ইমেজিং পরীক্ষা: আল্ট্রাসনোগ্রাফি, সিটি স্ক্যান বা এমআরআই

    ৩. বায়োপসি: খুবই প্রয়োজন হলে লিভার টিস্যু পরীক্ষা

    চিকিৎসা ও করণীয়

    ১. খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন

    • ভাজা খাবার ও রিফাইন্ড কার্বোহাইডেট কমানো
    • বেশি শাক-সবজি, ফল, সমগ্র শস্যজাতীয় খাবার ও প্রোটিন গ্রহণ
    • চিনি ও প্রসেসড খাবার পরিমাণ সীমিত রাখা

    ২. ওজন নিয়ন্ত্রণ

    • নিয়মিত ব্যায়াম (দৈনিক ৩০–৬০ মিনিট হাঁটা, সাইক্লিং, যোগ বা জিম)
    • ওজন কমানো লিভারে চর্বি কমাতে সবচেয়ে কার্যকর

    ৩. অ্যালকোহল এড়ানো

    • অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার থাকলে সম্পূর্ণ বর্জন

    ৪. ওষুধ ও চিকিৎসা

    • চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী লিভার সাপোর্ট ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট
    • কো-অ্যাডজুভান্ট চিকিৎসা যেমন ডায়াবেটিস বা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ

    ৫. জীবনধারার পরিবর্তন

    • পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ কমানো
    • ধূমপান এড়িয়ে চলা
    • পর্যাপ্ত পানি পান করা

    ফ্যাটি লিভার কমানোর টিপস

    ১. ধীরে ধীরে ওজন কমানো (সপ্তাহে ০.৫–১ কেজি)

    ২. নিয়মিত কার্ডিও ও ওজন কমানোর ব্যায়াম

    ৩. উচ্চ ফাইবার, কম চর্বি ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য

    ৪. চিনি ও অ্যালকোহল সম্পূর্ণ কমানো

    ৫. মাসিক লিভার ফাংশন পরীক্ষা করে আপডেট রাখা

    সর্বপরি ফ্যাটি লিভার একটি প্রতিরোধযোগ্য ও নিয়ন্ত্রণযোগ্য রোগ। সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে লিভারের চর্বি কমানো সম্ভব। প্রাথমিক পর্যায়ে সতর্কতা নিলে দীর্ঘমেয়াদে লিভারের গুরুতর রোগ যেমন সিরোসিস বা ফেইলিওর এড়ানো সম্ভব।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ