নগরবাসী দিশেহারা: মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ কর্তৃপক্ষ

সম্প্রতি রাজধানীতে মশার প্রকোপ ক্রমেই বেড়ে গেছে, যা নগরবাসীর জীবনযাত্রা এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উভয়কেই প্রভাবিত করছে। স্থানীয় আইনজীবীরা মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার কারণে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন।
মশক বিশেষজ্ঞরা মনে করাচ্ছেন, দীর্ঘ সময় বৃষ্টিহীন থাকা, জলাধার ও ড্রেনের অপর্যাপ্ত পরিচ্ছন্নতা এবং উষ্ণ তাপমাত্রা মশার বংশবিস্তারকে ত্বরান্বিত করেছে। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার জানিয়েছেন, সঠিক নজরদারি ও কার্যক্রম ছাড়া পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হতে পারে।
ডিএনসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী জানান, ‘বিগত বছরের তুলনায় এবার মশার উপদ্রব কম, আমরা সারাবছর ক্রাশ প্রোগ্রাম চালাই।’ তবে নাগরিকরা অভিযোগ করেছেন, মশার সংখ্যা এখনও বেশি এবং নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অনিয়মিত।
রাজধানীর কিছু এলাকা যেমন মিরপুর ডিওএইচএস, ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড, মহাখালী ডিওএইচএস, বারিধারা এবং বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় মশার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেশি। এসব এলাকার অপর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম অন্য এলাকাতেও মশা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রধান কারণ।
মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রশাসকরা সম্প্রতি ক্রাশ প্রোগ্রাম ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছেন। ডিএসসিসির প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা এয়ার কমডোর মাহাবুবুর রহমান জানিয়েছেন, “ওষুধের ঘাটতি নেই। সীমাবদ্ধতা থাকলেও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। শিগগিরই মশার সংখ্যা কমবে।”
নগরবাসীর জন্য এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো সঠিক ও নিয়মিত মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম নিশ্চিত করা। দায়িত্বশীল সংস্থাগুলোর সঙ্গে নাগরিক অংশগ্রহণ ও সচেতনতা বৃদ্ধিই দীর্ঘমেয়াদে মশার প্রকোপ কমাতে কার্যকর উপায়।