বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • লিবিয়ায় আটকে থাকা ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন

    লিবিয়ায় আটকে থাকা ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    লিবিয়া থেকে আজ বুধবার ১৭৫ বাংলাদেশি দেশে ফিরছেন। লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সহযোগিতায় এ বাংলাদেশিরা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় আসবেন। ফ্লাইটটি ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছানোর আশা করা হচ্ছে।

    লিবিয়ার বাংলাদেশ দূতাবাস জানায়, প্রত্যাবাসিতদের মধ্যে ১১৩ জন ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার এবং ৬২ জন বেনগাজির গানফুদা ডিটেনশন সেন্টারে আটক ছিলেন। এ ছাড়া তাদের মধ্যে ১৪ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ ছিলেন।

    লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ ত্রিপোলির মেতিগা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত থেকে প্রত্যাবাসন কার্যক্রম তদারক করেছেন এবং তাজুরা ডিটেনশন সেন্টার থেকে বিদায় জানিয়েছেন। এ সময় দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. রাসেল মিয়া উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রদূত প্রত্যাবাসন কার্যক্রমে সহযোগিতার জন্য লিবিয়ার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আইওএমকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান এবং ভবিষ্যতেও এ সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

    প্রত্যাবাসনকালে রাষ্ট্রদূত অভিবাসীদের সঙ্গে কথা বলেন। অভিবাসীরা লিবিয়ায় তাদের দুঃখ-দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। অনেকে অনিয়মিতভাবে লিবিয়ায় আসার পর বিভিন্ন চক্রের কাছে জিম্মি হয়ে মুক্তিপণের জন্য শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। খাদ্য ও পানির অভাব, চিকিৎসাহীনতা এবং দেশে জমিজমা বিক্রির কথাও উল্লেখ করেছেন। অনেকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ের কথাও জানিয়েছেন। রাষ্ট্রদূত তাদের দেশে ফিরে নতুন উদ্যমে জীবন শুরু করার আহ্বান জানান।

    রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক নৌ-দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, জীবিত অবস্থায় দেশে ফিরতে পারা তাদের জন্য সৌভাগ্য। তিনি প্রত্যাবাসিতদের ভবিষ্যতে ঝুঁকিপূর্ণ পথে না যাওয়ার পরামর্শ দেন। অনিয়মিত অভিবাসন ব্যক্তি ও পরিবারের ক্ষতির পাশাপাশি সামাজিক ও জাতীয় পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    রাষ্ট্রদূত বৈধ ও নিরাপদ অভিবাসনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিদেশে যাওয়ার আগে সরকারি অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং সঠিক তথ্য যাচাই করার পরামর্শ দেন। এছাড়া তিনি প্রত্যাবাসিতদের সরকারি ও বেসরকারি পুনর্বাসন ও কর্মসংস্থানের সুযোগ গ্রহণের জন্য উৎসাহিত করেন, যাতে তারা পুনরায় স্বনির্ভর জীবন গড়ে তুলতে পারেন।

    প্রতিবছর অভিবাসনপ্রত্যাশীরা ইউরোপে যাওয়ার পথে লিবিয়ায় আটকে পড়েন। ভূমধ্যসাগর পার হওয়ার সময় নৌকা আটকানো হয়। দেশটিতে অস্থিতিশীলতা, মানব পাচার চক্র, আশ্রয়কেন্দ্র ও কাগজপত্রের অভাবের কারণে দীর্ঘসময় বন্দি থাকতে হয়। ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক শরিফুল হাসান জানান, ইতালিসহ ইউরোপে যাদের সমুদ্রপথে নেওয়া হয়, তাদের ট্রানজিট ক্যাম্প হিসেবে লিবিয়ায় রাখা হয়। সেখানে অনেক বাংলাদেশি ভয়াবহ নির্যাতনের মুখোমুখি হন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন