সংবিধানের অনেক কিছু ছাড়াই আমরা এ পর্যন্ত এসেছি: সংসদে জামায়াত আমির

জাতীয় সংসদে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থান সংবিধানের অধীনে সংঘটিত হয় না; বরং তা জনগণের ইচ্ছা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব মন্তব্য করেন।
শফিকুর রহমান বলেন, সংবিধান বা আইন জনগণের কল্যাণে তৈরি হয়, জনগণ কখনো আইনের জন্য নয়। তিনি উল্লেখ করেন, দেশের বর্তমান বাস্তবতায় অনেক ক্ষেত্রেই সংবিধানের বাইরে গিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মাধ্যমে রাষ্ট্র এগিয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কোনো সাংবিধানিক বিধান না থাকলেও বাস্তবতার প্রয়োজনে তা গঠিত হয়েছে। একইভাবে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্বাচন না হওয়ার ঘটনাও সংবিধান থেকে বিচ্যুতির উদাহরণ।
গণভোট ইস্যুতে তিনি বলেন, অতীতেও সংবিধানে না থাকা সত্ত্বেও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং জাতি তার ফল ভোগ করেছে। তাই জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
তিনি দাবি করেন, সাম্প্রতিক গণভোটে ৬৮ শতাংশ মানুষ রায় দিয়েছেন এবং সেই গণরায়কে সম্মান জানানো উচিত। এতে সংসদ ও রাজনৈতিক দলগুলো আরও সম্মানিত হবে বলে তিনি মনে করেন।
সংবিধান সংস্কার প্রসঙ্গে সরকারের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত বিশেষ কমিটি সম্পর্কে শফিকুর রহমান বলেন, এটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করা যেতে পারে। তবে শর্ত হিসেবে তিনি বলেন, কমিটিতে সরকার ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য থাকতে হবে।
তার মতে, সদস্য সংখ্যা অনুপাতে নির্ধারণ করা হলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যাবে না এবং কার্যকর সংস্কার সম্ভব হবে না।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, তার বক্তব্যকে ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, তারা সংবিধান সংশোধন নয়, বরং ‘সংবিধান সংস্কার’-এর কথা বলেছেন।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি স্পষ্ট করার সুযোগ চাইলেও সময় শেষ হয়ে যাওয়ায় তা সম্ভব হয়নি। তবে স্পিকার পরবর্তীতে এ বিষয়ে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
বিরোধীদলীয় নেতা আশা প্রকাশ করেন, সরকার বিষয়গুলো আন্তরিকভাবে বিবেচনা করবে এবং রাজনৈতিক সংকট নিরসনে সদিচ্ছার পরিচয় দেবে।
তিনি বলেন, “সব পক্ষ যদি গণরায়কে সম্মান করে, তাহলে সংসদ ও রাষ্ট্র উভয়ই উপকৃত হবে।”