বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • দেশে শেষ ৬ টিকার মজুত, ঝুঁকিতে শিশুর স্বাস্থ্য

    দেশে শেষ ৬ টিকার মজুত, ঝুঁকিতে শিশুর স্বাস্থ্য
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশে শিশুদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৬ ধরনের টিকার মজুত ফুরিয়ে যাওয়ার খবর সামনে এসেছে। এসব টিকার মধ্যে রয়েছে হাম-রুবেলা, পোলিও, যক্ষ্মা, নিউমোনিয়া, ডিপথেরিয়া-ধনুষ্টার এবং হেপাটাইটিস-বি। যদিও স্বাস্থ্য অধিদফতর দাবি করছে, মাঠপর্যায়ে এখনো কিছু টিকা সরবরাহ রয়েছে।

    প্রতি বছর দেশে ৪০ লাখের বেশি শিশু জন্ম নেয়। জন্মের পর থেকে ১৫ মাস বয়স পর্যন্ত এসব শিশুকে ১২টি রোগ প্রতিরোধে মোট ৯ ধরনের টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সংকটে টিকাদান কার্যক্রমে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে, ফলে অনেক শিশু নির্ধারিত সময় অনুযায়ী টিকা পাচ্ছে না।

    টিকার এই সংকটের পেছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে ক্রয় পদ্ধতির পরিবর্তন ও প্রশাসনিক জটিলতা। আগে সরাসরি ইউনিসেফের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহ করা হলেও পরে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, অর্ধেক টিকা সরাসরি এবং বাকি অর্ধেক ওপেন টেন্ডারের মাধ্যমে কেনা হবে। এই পরিবর্তনের ফলে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয় এবং সময়মতো টিকা সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

    স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ফলে কার্যক্রমে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে এবং এর প্রভাব এখন দেখা যাচ্ছে।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময় অপারেশনাল প্ল্যান (ওপি) বাতিল হওয়ার পর থেকেই টিকাদান কার্যক্রমে ধীরগতি দেখা দেয়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে অনেক শিশু টিকা থেকে বঞ্চিত হয়েছে। এতে টিকাদানের হারও কমে গেছে।

    পরবর্তীতে সরকার বিশেষ বরাদ্দ হিসেবে হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন করে, যার মধ্যে শিশুদের টিকার জন্য ৮৪২ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়। তবে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেই অর্থের কার্যকর ব্যবহার বিলম্বিত হয়েছে।

    বর্তমানে দেশে হামের প্রকোপ বাড়তে শুরু করেছে। প্রতিদিন আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানা গেছে। টিকার ঘাটতি দীর্ঘস্থায়ী হলে শিশুরা নানা সংক্রামক রোগের ঝুঁকিতে পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

    স্বাস্থ্য বিভাগ এখন আবারও সরাসরি ক্রয়ের মাধ্যমে টিকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করছে। এ উদ্যোগ সফল হলে দ্রুত টিকার মজুত পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে এবং সংকটপূর্ণ এলাকায় সরবরাহ নিশ্চিত করা যাবে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের সুরক্ষায় নিয়মিত ও নিরবচ্ছিন্ন টিকাদান কার্যক্রম বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এজন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন