জুলাই-আগস্টে ২ কোটি শিশু হামের টিকা পাবে

দেশে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। বড় ১০টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পৃথক ওয়ার্ড চালুর পাশাপাশি জুলাই-আগস্টে দেশব্যাপী বিশেষ টিকাদান কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ২ কোটি শিশুকে টিকা দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতায় ৯ ও ১৫ মাস বয়সে টিকা দেওয়ার কথা থাকলেও করোনা মহামারি ও টিকা সংকটের কারণে অনেক শিশু টিকা থেকে বাদ পড়ে। এতে সংক্রমণ বাড়ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় টিকা ক্রয়ে ৬০৪ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল জানান, আক্রান্তদের চিকিৎসায় আইসিইউসহ প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। বিভিন্ন হাসপাতালে আলাদা ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে এবং নতুন ভেন্টিলেটরও সরবরাহ করা হচ্ছে।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বর্তমানে আক্রান্তদের একটি বড় অংশের বয়স ছয় মাসের নিচে। তাই বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শে ছয় মাস বয়স থেকেই টিকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, টিকাদানে ঘাটতি, অপুষ্টি, মায়ের দুধ না খাওয়ানো এবং দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতার কারণে হামের প্রকোপ বেড়েছে। হামে আক্রান্ত হলে নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতা তৈরি হয়ে মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালীসহ বিভিন্ন জেলায় সংক্রমণ বেশি। অনেক হাসপাতালে রোগীর চাপ সামাল দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে; কোথাও আইসিইউকে আইসোলেশন ইউনিটে রূপান্তর করা হয়েছে, আবার কোথাও করিডোরে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
খুলনা, কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে শিশুরোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি। ময়মনসিংহে গত ১২ দিনে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বরগুনা ও অন্যান্য জেলাতেও মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
চিকিৎসকরা সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত টিকাদান কর্মসূচি জোরদার, আক্রান্তদের আলাদা রাখা এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধি না করলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।