বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • ২০৫০ সালে অর্ধেক মানুষ ঝাপসা দেখবে, গবেষকরা জানালেন আসল কারণ

    ২০৫০ সালে অর্ধেক মানুষ ঝাপসা দেখবে, গবেষকরা জানালেন আসল কারণ
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    মোবাইল, ল্যাপটপ বা যে কোনও ডিজিটাল পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকার কারণে চোখের ক্ষীণদৃষ্টি হবে, এমন ধারণা পুরোপুরি সত্য নয়। এর নেপথ্যে রয়েছে এক অদ্ভুত এবং সাধারণ অভ্যাস।

    আজকাল মানুষ মোবাইল থেকে চোখ সরাতে পারছে না। ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে কাজ করেই দিনের অধিকাংশ সময় কেটে যাচ্ছে। ডিজিটাল পর্দা অবশ্যই চোখে চাপ সৃষ্টি করছে, তবে শুধু প্রযুক্তিকেই দোষারোপ করার কোনও সুযোগ নেই বলে মত দিয়েছেন গবেষকরা।

    সাম্প্রতিক এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ মায়োপিয়া বা দূরের দৃষ্টি স্বচ্ছ নয় সমস্যার শিকার হবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ক্ষীণদৃষ্টির প্রধান কারণ ‘স্ক্রিন টাইম’ নয়, বরং রোজের এক অতি সাধারণ অভ্যাস।

    গবেষকরা জানিয়েছেন, চোখের সঠিক বিশ্রাম, দূরের দিকে তাকানো এবং নিয়মিত চোখের ব্যায়াম এই সমস্যার প্রতিরোধে সহায়ক। তাই শুধু প্রযুক্তির ওপর নির্ভর না করে, দৈনন্দিন অভ্যাস পরিবর্তন করাই দৃষ্টিশক্তি রক্ষার মূল চাবিকাঠি।

    মায়োপিয়া এমন এক রোগ, যেখানে কাছের জিনিস স্পষ্ট দেখা যায়, তবে দূরের জিনিস দেখতে সমস্যা হয়। পূর্ব এশিয়ার দেশগুলিতে কমবয়সিদের মধ্যেই মায়োপিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার হার বেশি। ‘সেল রিপোর্ট’ জার্নালে এক সমীক্ষার রিপোর্ট বেরিয়েছে, যা চিন্তা কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। সেখানে বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে বিশ্বের অর্ধেকের বেশি মানুষ চোখের সমস্যায় ভুগবেন। কেউ আক্রান্ত হবেন মায়োপিয়ায়, কারও কর্নিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে, আবার কেউ চোখে ঝাপসা দেখবেন। এর কারণ মোবাইলের নীল আলো নয়, বরং নিবু নিবু বা কম আলোয় কোনও কিছু দেখা বা পড়ার অভ্যাস। স্বল্প আলোয় বা আবছা অন্ধকারে মোবাইল দেখা, বই পড়া বা কোনও কাজ করার অভ্যাস অনেকেরই আছে। এখনকার সময়ে অন্দরসাজেও এমন নিবু নিবু আলোরই ব্যবহার বেশি। সেগুলিই জ্বালিয়ে রাখা হয় বেশির ভাগ সময়ে। এতে ঘরের সাজসজ্জায় মায়াবী পরিবেশ তৈরি হয় বটে, কিন্তু চাপ পড়ে চোখের উপরে।

    কম আলোয় দেখা বা বই পড়ার অভ্যাস কতটা বিপজ্জনক, তা নিয়ে গবেষণা করছেন নিউ ইয়র্ক কলেজ অফ অপ্টোমেট্রি-র গবেষকেরা। তাঁদের যুক্তি, কম আলোয় কিছু দেখার সময় চোখের মণি সঙ্কুচিত হয়। সে ভাবেই আলোর প্রতিফলন ঘটিয়ে চারপাশের দৃশ্য পরিষ্কার দেখার চেষ্টা করা হয়। এতে যে সমস্যা দেখা দেয়, তা হল রেটিনায় আলো পৌঁছোনোর পথটা আরও সঙ্কীর্ণ হয়ে যায়, যা চোখের পেশিতে চাপ সৃষ্টি করতে থাকে।

    বিজ্ঞানীরা ৩৪ জনের উপর প্রাথমিক ভাবে পরীক্ষা করে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছেন। ফলাফল দেখে তাঁদের ব্যাখ্যা, যাঁদের চশমা আছে বা দূরের দৃশ্য দেখতে কষ্ট হয়, তাঁরা যদি কম আলোয় বা আলো-আঁধারি পরিবেশে একটানা মোবাইল দেখে যান অথবা বই পড়ার চেষ্টা করেন, তা হলে তাঁদের দৃষ্টি ঝাপসা হতে বাধ্য। অবশ্য তা এক-আধ দিনে হবে না। দিনের পর দিন এমন অভ্যাসে থাকলে চোখের বারোটা বাজবেই।

    গবেষকদের মতে, শুধু আই ড্রপ দিয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। অভ্যাস বদলাতেই হবে। ঘরের ভিতরে পড়ার সময় বা ফোন ব্যবহারের সময় পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা রাখা জরুরি। রাতে শুয়েও যদি বই পড়তে হয় বা কিছ দেখতে হয়, তা হলে নাইট ল্যাম্প নয়, উজ্জ্বল আলো থাকাই বাঞ্ছনীয়। প্রকৃতির মাঝে বেশি সময় থাকলে দৃষ্টিশক্তি ভাল থাকবে বলেও মত গবেষকদের।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ