ঈদযাত্রায় ট্রেনে স্বস্তি, মহাসড়কে বাড়ছে ধীরগতি

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে রাজধানী ঢাকা থেকে ঘরমুখো মানুষের ঈদযাত্রা শুরু হয়েছে। প্রিয়জনদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে ধীরে ধীরে ঢাকা ছাড়ছেন হাজারো মানুষ।
ট্রেনযাত্রায় যাত্রীদের চাপ বাড়লেও বেশিরভাগ ট্রেন নির্ধারিত সময়েই ছেড়ে যাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে যাত্রীদের মাঝে। অন্যদিকে সড়কপথে ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় যানজট ও ধীরগতির কারণে ভোগান্তির চিত্র দেখা যাচ্ছে।
সরেজমিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে দেখা যায়, ঘরমুখো যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে কঠোর শৃঙ্খলার মধ্যেই যাত্রীরা ট্রেনে উঠছেন। টিকিট যাচাই ছাড়া কাউকে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, ফলে বিশৃঙ্খলা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়াগামী যাত্রী রিয়াসাত জানান, অনলাইনে টিকিট কেটে নির্বিঘ্নে যাত্রা শুরু করতে পেরেছেন। স্টেশনে তেমন কোনো বিশৃঙ্খলা নেই বলেও তিনি জানান। শায়েস্তাগঞ্জগামী আজিজুল হক বলেন, টিকিট পাওয়া এবং যাত্রা—দুটোই এখন পর্যন্ত সন্তোষজনক।
সিলেটগামী যাত্রী মো. বিল্লাল বলেন, এসি কোচের টিকিট না পেলেও শোভন চেয়ারে যাত্রা করছেন। সার্বিকভাবে যাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
অনেক যাত্রী অনলাইনে টিকিট না পেলেও স্টেশন থেকে স্ট্যান্ডিং টিকিট কিনে যাত্রা করছেন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাজমুল হক জানান, অনলাইনে টিকিট না পেয়ে তিনি স্টেশন থেকে টিকিট সংগ্রহ করেছেন এবং ভাড়াও স্বাভাবিক রয়েছে।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম জানান, এখন পর্যন্ত ২০ জোড়া ট্রেন ঢাকা ছেড়ে গেছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস কিছুটা বিলম্বিত হলেও অন্যান্য ট্রেন সময়মতো ছেড়েছে। যাত্রীদের ভোগান্তি কমাতে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সড়কপথে যানবাহনের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। ঢাকা–টাঙ্গাইল মহাসড়কের আশুলিয়া, কালিয়াকৈর ও চন্দ্রা এলাকায় যানবাহন ধীরগতিতে চলছে। একইভাবে ঢাকা–ময়মনসিংহ সড়কের টঙ্গী থেকে গাজীপুর এবং ঢাকা–চট্টগ্রাম মহাসড়কের যাত্রাবাড়ী ও কাঁচপুর এলাকাতেও যানজট দেখা দিয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরবঙ্গের ১৭ জেলার যাত্রীদের বড় একটি অংশ চন্দ্রা হয়ে যাতায়াত করেন। এছাড়া কালিয়াকৈর এলাকায় বিপুল সংখ্যক শিল্পকারখানা থাকায় ছুটির সময় শ্রমিকদের চাপ বাড়ে, ফলে যানজটের সৃষ্টি হয়।
মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন শেষে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, ঈদ উপলক্ষে যাত্রীচাপ বাড়লেও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে পর্যায়ক্রমে বাস চলাচলের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, নির্ধারিত ভাড়ার বাইরে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের সুযোগ নেই। টার্মিনালে মোবাইল কোর্ট, ভিজিল্যান্স টিম ও পুলিশের কন্ট্রোল রুম সক্রিয় রয়েছে। কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।