কিডনি রোগের ৩টি ‘নীরব’ লক্ষণ; অবহেলা করলেই ঘনিয়ে আসবে বিপদ

কিডনির রোগ নিঃশব্দে মানুষের মধ্যে বাসা বাঁধে। কেবল ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া মানেই কিডনির অসুখের ইঙ্গিত নয়। অনেক সময় চোখ ও ত্বকে কিছু পরিবর্তন লক্ষ্য করলে বোঝা যায় কিডনির সমস্যা হতে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে কিডনির রোগ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। ক্রনিক কিডনি অসুখে কম বয়সিরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। ঘরে ঘরে দেখা যাচ্ছে কিডনিতে পাথর জমার সমস্যা। পাশাপাশি কিডনিতে সংক্রমণ এবং পলিসিস্টিক কিডনির রোগেও আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।
কিডনির রোগের কিছু লক্ষণ থাকে যা সহজে বোঝা যায় না। তবে চোখে ফোলা, ত্বক সঠিক রঙ হারানো, ক্ষুধা কমে যাওয়া বা শরীরে অস্বাভাবিক ফোলা দেখা দিলে তা সতর্কবার্তা। এই উপসর্গগুলোর প্রতি যত্নশীল হলে কিডনির গুরুতর অসুখ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব।
কোন কোন লক্ষণ এড়িয়ে গেলেই বিপদ?
চোখের চারপাশে ফোলা ভাব
সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখেন চোখের নীচের অংশ অস্বাভাবিক ফুলে আছে এবং ফোলা ভাব কমছে না, তবে বুঝতে হবে কিডনি দিয়ে প্রোটিন বেরিয়ে যাচ্ছে। এটি কিডনি রোগের প্রাথমিক লক্ষণ।
ঝাপসা দৃষ্টি
কিডনি রোগের কারণে রক্তচাপের হেরফের হতে পারে। রক্তচাপ যদি বাড়ে, তা হলে চোখের রক্তনালিগুলি ছিঁড়ে যেতে পারে। এর রেশ পড়বে রেটিনাতেও। এর থেকে রেটিনোপ্যাথি হওয়ার আশঙ্কা বাড়বে। এই রোগে চোখের রক্তনালিগুলি থেকে রক্তক্ষরণ হয়, ফলে দৃষ্টিশক্তি ঝাপসা হতে শুরু করে।
শুষ্ক ত্বক, চুলকানি
কিডনির সমস্যা থাকলে ত্বকে ফুসকুড়ি, র্যাশ, চুলকানির মতো সমস্যা হতে পারে। বাতাসে অত্যধিক আর্দ্রতা শুষ্ক ত্বকের একমাত্র কারণ নয়। শুষ্ক এবং রুক্ষ ত্বক কিডনির সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। কিডনি সঠিক ভাবে কাজ না করার ফলে ত্বকের ঘর্মগ্রন্থি বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ফলে টক্সিন জমে থেকে ত্বক শুকিয়ে যায়। তাই হঠাৎ যদি ত্বক শুষ্ক ও খসখসে দেখায় তা হলেও সতর্ক হতে হবে।
শ্বাসকষ্ট ও বুকে ব্যথা
কিডনি বিকল হলে ফুসফুসে জল জমতে শুরু করে। শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। রক্তে টক্সিনের মাত্রা বেড়ে গিয়ে হার্টে প্রদাহ হতে পারে। ফলে বুকে ব্যথা বাড়ে।