বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • শিশুদের রক্তশূন্যতা বাড়ছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সঠিক খাদ্যাভ্যাস

    শিশুদের রক্তশূন্যতা বাড়ছে, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ সঠিক খাদ্যাভ্যাস
    ছবি : সংগৃহীত
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    দেশের অনেক শিশুই অপুষ্টি ও খাদ্যঘাটতির সমস্যায় ভুগছে।  রক্তাল্পতার কারণ অনুসন্ধান করতে গিয়ে দেখা গেছে, আয়রন ও ফলিক অ্যাসিডের ঘাটতি এই সমস্যার একটি বড় কারণ। এই ঘাটতি পূরণে ‘সাপ্তাহিক আয়রন-ফলিক অ্যাসিড সাপ্লিমেন্টেশন’ কর্মসূচিও চালু করা হয়েছে।

    তবে চিকিৎসকদের মতে, শুধুমাত্র ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট নয়, শিশুর খাদ্যাভ্যাসের দিকেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। অপুষ্টিজনিত রক্তাল্পতা শুধু গ্রামাঞ্চলের শিশুদের মধ্যেই নয়, শহরের শিশুদের মধ্যেও দেখা যায়। এর প্রধান কারণ হলো সঠিক পুষ্টির অভাব। অনেক সময় অভিভাবকেরা মনে করেন বেশি পরিমাণে খাবার খাওয়ালেই শিশুর স্বাস্থ্য ভালো থাকবে। কিন্তু কোন খাবারগুলো শিশুর শারীরিক বিকাশের জন্য জরুরি, সে বিষয়ে সবার সঠিক ধারণা থাকে না।

    ন্যাশনাল ফ্যামিলি হেলথ সার্ভে (২০১৯–২১) অনুযায়ী, দেশে তিন থেকে পাঁচ বছর বয়সী এবং তার কম বয়সী প্রায় ৬৭ থেকে ৭১ শতাংশ শিশু রক্তাল্পতায় আক্রান্ত। জন্মের পর প্রথম তিন মাস পর্যন্ত শিশুর শরীরে যে হিমোগ্লোবিন থাকে, তা মূলত মায়ের শরীর থেকে পাওয়া। এরপর শিশুর শরীরের অস্থিমজ্জায় নিজস্বভাবে রক্ত তৈরি হতে শুরু করে।

    সাধারণত ৬ মাস থেকে ২ বছর বয়সী শিশুর রক্তে হিমোগ্লোবিনের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১০.৫ থেকে ১৩.৫ গ্রাম হওয়া উচিত। ২ বছর থেকে ১২ বছর বয়সে এই মাত্রা হওয়া উচিত প্রতি ডেসিলিটারে ১১.৫ থেকে ১৫.৫ গ্রাম। এর চেয়ে কম হলে রক্তাল্পতার লক্ষণ দেখা দিতে পারে। তখন শিশু দুর্বল হয়ে পড়ে, ক্ষুধা কমে যায় এবং মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে দেখায়।

    তাই এই বয়স থেকেই শিশুকে পরিপূরক খাবার খাওয়ানো জরুরি। বিশেষ করে আয়রনসমৃদ্ধ খাদ্য যেমন শাকসবজি, ডাল, ডিম, মাছ ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার শিশুর দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। এতে শিশুর শরীরে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা স্বাভাবিক থাকবে এবং রক্তাল্পতার ঝুঁকি কমবে।

    রক্তাল্পতায় শিশুর ডায়েট

    শিশুদের রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সঠিক খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। প্রাণিজ ও উদ্ভিজ্জ—উভয় উৎস থেকেই শরীর প্রয়োজনীয় আয়রন পেতে পারে। মাছ, মাংস ও ডিম থেকে যে আয়রন পাওয়া যায় তাকে ‘হিম আয়রন’ বলা হয়। অন্যদিকে ড্রাই ফ্রুট, ডুমুর, বাদাম, কিশমিশ ও বিভিন্ন সবুজ শাকসবজি থেকে পাওয়া আয়রনকে বলা হয় ‘নন-হিম আয়রন’। শরীর সাধারণত দুই ধরনের আয়রনই শোষণ করতে সক্ষম।

    সকালের নাশতায় শিশুকে দুধ ও ওটস দেওয়া যেতে পারে। ওটসে রয়েছে পর্যাপ্ত আয়রন ও ফাইবার, যা শিশুর শরীরের জন্য উপকারী। যদি কোনো শিশুর গরুর দুধে অ্যালার্জি থাকে, তবে কাঠবাদামের দুধ বা দই দিয়েও ওটস তৈরি করা যেতে পারে।

    নাশতার প্রায় এক ঘণ্টা পর শিশুকে ভালোভাবে সেদ্ধ করা ডিম এবং একটি মৌসুমি ফল দেওয়া যেতে পারে। ফলের মধ্যে আপেল, নাশপাতি, বেদানা বা কলা থাকলে তা পুষ্টির দিক থেকে ভালো।

    দুপুরের খাবারে ভাত বা খিচুড়ির সঙ্গে গাজর, বিনস, বিট, ব্রকলি বা পালং শাকের মতো আয়রনসমৃদ্ধ সবজি রাখা প্রয়োজন। এ ছাড়া ছোট মাছ ও মাংসের কলিজাতেও আয়রনের ভালো উৎস রয়েছে। যদি শিশু মাছ খেতে না চায়, তবে বিকল্প হিসেবে সয়াবিন বা ঘরে তৈরি ছানা দেওয়া যেতে পারে।

    এক বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের প্রতিদিন ভিজিয়ে রাখা খেজুর ও কিশমিশ খাওয়ালে তা রক্তাল্পতা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

    বিশেষজ্ঞদের মতে, আয়রনসমৃদ্ধ খাবারের পাশাপাশি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ ফল ও সবজি খাওয়ানোও জরুরি। লেবু, আমলকি বা কমলালেবুর মতো ফল শরীরে আয়রন শোষণে সহায়তা করে।

    এ ছাড়া ছোটবেলা থেকেই শিশুদের চা বা কফি খাওয়ানোর অভ্যাস না করাই ভালো। কারণ এসব পানীয় শরীরে আয়রন শোষণে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। এর পরিবর্তে ঘরে তৈরি স্বাস্থ্যকর পানীয় বা ওটস, কাঠবাদাম ও খেজুর দিয়ে তৈরি স্মুদি খাওয়ালে শিশুর পুষ্টি চাহিদা পূরণে বেশি উপকার পাওয়া যেতে পারে।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ