নতুন সংসদে শুরু হলো গণতন্ত্রের পুনর্যাত্রা

জাতীয় সংসদ ভবনে আজ (১২ মার্চ) বেলা ১১টায় শুরু হচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন। এর মধ্য দিয়ে দেশে সংসদীয় গণতন্ত্রের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হচ্ছে।
নবম সংসদের পর প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচন, ২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থান, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে নির্বাচন শেষে নতুন এই সংসদের যাত্রা শুরু হচ্ছে। এ সংসদের সংসদ নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে রয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান। বর্তমান সংসদের ২১৯ জন সংসদ সদস্যই প্রথমবারের মতো নির্বাচিত হয়েছেন।
সংসদের প্রথম অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। এরপর সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন এবং প্রয়াত সংসদ সদস্য ও বিশিষ্ট ব্যক্তিদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শোকপ্রস্তাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
প্রথম অধিবেশনে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করবেন আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান। এছাড়া জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২০২৪ সালের বার্ষিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে।
অধিবেশনের শেষ পর্বে সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন সংসদে উদ্বোধনী ভাষণ দেবেন। এরপর সংসদ সদস্যরা সেই ভাষণের ওপর আলোচনা করবেন।
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী পূর্ববর্তী সংসদের স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকারের সভাপতিত্বে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা। তবে দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করায় এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারাগারে থাকায় সেই নিয়ম অনুসরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বিএনপির কোনো জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে।
এ বিষয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি জানান, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের আগে সংসদের একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যকে সভাপতিত্বের দায়িত্ব দেওয়া হবে।
স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমানকে দিয়েছে বিএনপির সংসদীয় দল। বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম স্পিকার হিসেবে আলোচনায় রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে বিরোধীদল হিসেবে সংসদে ভূমিকা রাখছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট। তারা জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান জানিয়েছেন, সংসদে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে জামায়াত।
সংসদীয় কার্যক্রম কার্যকরভাবে পরিচালনার লক্ষ্যে বিএনপি ও জামায়াত উভয় দলই তাদের সংসদ সদস্যদের জন্য কর্মশালার আয়োজন করেছে। অধিকাংশ সদস্য নতুন হওয়ায় সংসদীয় কার্যপ্রণালি সম্পর্কে তাদের ধারণা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
চিফ হুইপ জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাইয়ের জন্য সব দলের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি সিদ্ধান্ত নেবে কোন অধ্যাদেশ বহাল থাকবে এবং কোনগুলো বাতিল করা হবে।
প্রথম দিনের অধিবেশন শেষে তা দুই দিনের জন্য মুলতবি করা হবে। পরে ঈদুল ফিতর ও স্বাধীনতা দিবসের ছুটির পর আগামী ২৯ মার্চ আবার অধিবেশন বসতে পারে। এরপর এপ্রিল মাসজুড়ে সংসদের কার্যক্রম চলবে বলে জানা গেছে।