চরমপন্থিরা পুনরায় সক্রিয়, র্যাবের অভিযানে বিপুল অস্ত্র জব্দ

র্যাব জানিয়েছে, অভ্যুত্থান পরবর্তী দেশের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন চরমপন্থি সংগঠন পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে মঙ্গলবার ( ১০ মার্চ ) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, আত্মসমর্পণ করা অনেক চরমপন্থি সদস্যও পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছেন।
তিনি জানান, রাজধানীর আদাবর ও সিরাজগঞ্জে পৃথক অভিযানে ১২টি আগ্নেয়াস্ত্র, বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ এবং দুটি প্রাইভেটকার জব্দ করা হয়েছে। গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাবনার অস্ত্র ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন ও রকিব রানা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, এসব অস্ত্র চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আনা হয়েছিল এবং পরে পাবনা অঞ্চলে পাঠানোর পরিকল্পনা ছিল।
র্যাব উইং কমান্ডার বলেন, পাবনা- কুষ্টিয়ার চরাঞ্চল দখল নিয়ে সংঘর্ষ ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের জন্য চরমপন্থিরা আগের মতোই সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। সুন্দরবনের জলদস্যুরাও আবার অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে, এবং তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় পরিচালিত বড় যৌথ অভিযানে প্রায় ৩,৫০০ সদস্য অংশগ্রহণ করেন। এ অভিযানে একটি বিদেশি পিস্তল, দেশি পিস্তল, এলজি, ২৭টি পাইপগান তৈরির পাইপ, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, ৬১টি কার্তুজ, ১,১১৩ রাউন্ড গুলি ও ১১টি ককটেলসহ বিপুল অস্ত্র ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-১২ অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকুর রহমান মিয়া জানান, ২০২৩ সালে প্রায় ৩১৩ জন চরমপন্থি সদস্য আত্মসমর্পণ করেছিল। তবে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর কিছু আত্মসমর্পণকারী আবারও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। র্যাব তাদের ওপর গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করেছে, যার ফলে অস্ত্র ও বিপুল সামগ্রী জব্দ সম্ভব হয়েছে।