ঈশ্বরগঞ্জে যাচাই ছাড়া নাম জারি, জমি নিয়ে বাড়ছে বিরোধ-মামলা

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলায় জমির মালিকানা, দখল ও প্রকৃত ওয়ারিশ যাচাই না করেই জমা খারিজ (মিউটেশন) দেওয়ার অভিযোগ বাড়ছে। এর ফলে পারিবারিক ও সামাজিক বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করছে এবং আদালতে মামলা-মোকদ্দমার সংখ্যাও বাড়ছে। অনেক ভুক্তভোগী মাসের পর মাস ভূমি অফিসে ঘুরেও প্রতিকার না পেয়ে হতাশ হচ্ছেন।
স্থানীয়দের মতে, জমি সংক্রান্ত এই অনিয়মের কারণে নিকট আত্মীয়দের মধ্যেই সম্পর্কের অবনতি ঘটছে। ভাই-ভাতিজা, পিতা-পুত্র, চাচা-ফুফু কিংবা ভাই-বোনদের মধ্যে সম্পত্তি নিয়ে দ্বন্দ্ব বাড়ছে। অনেক ক্ষেত্রে এসব বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যে স্বজনদের সঙ্গে সম্পর্ক পর্যন্ত ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, জমা খারিজের আগে মাঠ তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই বাধ্যতামূলক হলেও অনেক ক্ষেত্রে তা যথাযথভাবে করা হয় না। ফলে একই জমির মালিকানা নিয়ে একাধিক পক্ষ দাবি করছে এবং বিষয়গুলো আদালতে গড়াচ্ছে।
এমন একটি অভিযোগ উঠেছে উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের ভাটিচরণওপাড়া গ্রামে। সেখানে জীবিত মাকে মৃত দেখিয়ে অন্য ভাই-বোনদের সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি। জানা যায়, মৃত সাহেদ আলীর জমি দলিল পরিবর্তনের মাধ্যমে তার ছেলে আব্দুল হান্নান নিজের স্ত্রীর নামে লিখে নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ঈশ্বরগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৫৪৮১ নম্বর দলিল সম্পাদনের সময় রহিমা খাতুনকে মৃত দেখানো হয় এবং পরিবারের অন্যান্য ওয়ারিশদের নামও দলিলে উল্লেখ করা হয়নি।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল হান্নান বলেন, দলিল লেখার সময় কম্পিউটারে ভুল হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও জানান, তিনি ওয়ারিশান সনদে রহিমা খাতুনকে মৃত দেখাননি।
এদিকে উপজেলার মাইজবাগ ইউনিয়নের সাধুগোলা এলাকাতেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। সেখানে মৃত সূর্য কান্ত দেবনাথের পাঁচ পুত্রের মধ্যে একজনকে বাদ দিয়ে ওয়ারিশান সনদ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বাদ পড়া নাবালক নির্ভক দেবনাথের পক্ষে স্বজল চন্দ্র দেবনাথ উপজেলা ভূমি অফিসে মিউটেশন বাতিলের দাবিতে মিসকেস দায়ের করেছেন।
সংশ্লিষ্ট ভূমি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনেক ক্ষেত্রে কাগজপত্র দেখে প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং সব জায়গায় সরেজমিনে যাওয়া সম্ভব হয় না। তবে মিসকেসের নথি পর্যালোচনা করে বিষয়টি স্পষ্ট করা যাবে বলে তারা জানিয়েছেন।
ভূমি সংক্রান্ত নিয়ম অনুযায়ী, জমা খারিজের আগে জমির মালিকানা, দখল ও প্রকৃত ওয়ারিশ যাচাই করে মাঠ তদন্ত করার কথা রয়েছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ না করায় একই জমি নিয়ে একাধিক পক্ষের দাবি তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, নাম জারির সময় সঠিক যাচাই-বাছাই, সরেজমিন তদন্ত এবং নথিপত্র পরীক্ষা নিশ্চিত করা না হলে জমি নিয়ে বিরোধ ও মামলার সংখ্যা আরও বাড়বে। তাই জনস্বার্থে ভূমি সংক্রান্ত কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
আপনার এলাকাতেও যদি জমি সংক্রান্ত অনিয়ম, যাচাই ছাড়া নাম জারি বা মিউটেশন নিয়ে কোনো অভিযোগ বা তথ্য থাকে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বা গণমাধ্যমকে জানান। সচেতনতা ও তথ্য প্রকাশের মাধ্যমেই অনিয়ম রোধ করা সম্ভব।