বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রী

    কণ্টকাকীর্ণ রাজনৈতিক পথ পেরিয়ে ইশরাক হোসেন প্রতিমন্ত্রী
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন প্রজন্মের ‘প্রোটোটাইপ’ নেতা হিসেবে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন ইশরাক হোসেন। ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হওয়ার পর তিনি সরকারের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই অর্জন কেবল তার ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা নয়, বরং পুরান ঢাকার রাজনীতির ওপর তার দৃঢ় প্রভাবের প্রমাণ।

    রাজনীতিতে উত্থান ও পারিবারিক প্রভাব
    ১৯৮৭ সালের ৫ এপ্রিল জন্মগ্রহণ করা ইঞ্জিনিয়ার ইশরাক হোসেন রাজনীতির হাতেখড়ি পেয়েছেন পারিবারিক আবহে। তিনি অবিভক্ত ঢাকার সাবেক সফল মেয়র এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক হোসেন খোকার জ্যেষ্ঠ পুত্র। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বাবার মৃত্যুর পর ‘ফুলটাইম’ রাজনীতিক হিসেবে রাজনীতির মাঠে প্রবেশ করেন। শিক্ষিত, মার্জিত ও স্পষ্টবাদী হওয়ায় দ্রুতই বিএনপির তৃণমূল ও সাধারণ মানুষের নজর কাড়েন।

    শিক্ষাজীবন ও পেশাগত অভিজ্ঞতা
    ইশরাক হোসেনের শিক্ষাজীবন উজ্জ্বল। ঢাকার স্কলাস্টিকা থেকে ও-লেভেল ও এ-লেভেল শেষ করে তিনি যুক্তরাজ্যে ইউনিভার্সিটি অব হার্টফোর্ডশায়ার থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন। পেশাগত জীবনে যুক্তরাজ্যের মোটরগাড়ি শিল্পে কাজ করেছেন।

    ২০২০ সালের সিটি নির্বাচন: রাজনীতির বাঁক
    ইশরাকের রাজনৈতিক জীবনের প্রথম বড় চ্যালেঞ্জ ছিল ২০২০ সালের ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) নির্বাচন। প্রবল প্রতিকূলতার মধ্যেও তিনি মাঠ ত্যাগ করেননি। ভোট কারচুপির অভিযোগ ও দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ নির্বাচনী ট্রাইব্যুনাল তাকে প্রকৃত বিজয়ী হিসেবে ঘোষণা করে।

    প্রথমবার এমপি, প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৭৮,৮৫০ ভোটে বিজয়ী হওয়া ইশরাক হোসেন প্রতিদ্বন্দ্বীকে ২৩,১৫৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করেন। নির্বাচনী বিজয়ই তাকে সরকারের প্রতিমন্ত্রী পদে নিয়োগ পাওয়ার সুযোগ দেয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তিনি মুক্তিযোদ্ধা কল্যাণ ট্রাস্টের আধুনিকায়ন এবং তরুণ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে উদ্বুদ্ধ করার কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

    মেয়র নির্বাচনের নতুন ঘোষণা
    প্রতিমন্ত্রী হওয়ার পরও নগর রাজনীতির প্রতি আকাঙ্ক্ষা ছেড়ে দেননি ইশরাক। সম্প্রতি তিনি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন থেকে পুনরায় মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার ঘোষণা দিয়েছেন। সমর্থকরা মনে করছেন, তিনি ঢাকাকে আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরী হিসেবে গড়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চান।

    রাজপথের সংগ্রাম ও রাজনৈতিক আদর্শ
    রাজনীতির শুরু থেকে ইশরাক হোসেন আন্দোলনে সক্রিয় ছিলেন। পুলিশ লাঠিচার্জ, জেল, মামলা—সবকিছুকে পেরিয়ে তিনি নিজেকে ‘লড়াকু’ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। জাতীয়তাবাদ ও গণতন্ত্রের ওপর তার রাজনৈতিক বিশ্বাস দৃঢ়। এছাড়া তিনি বিএনপির আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির সদস্য এবং দলের বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমানের আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত।

    ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
    রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইশরাক হোসেনের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা অপরিসীম। তবে মন্ত্রীর দায়িত্ব এবং মেয়রের স্বপ্ন—দুই দ্বিমুখী ভূমিকা সামলানো বড় চ্যালেঞ্জ। ঢাকার স্থানীয় রাজনীতি এবং জাতীয় রাজনীতির ভারসাম্য বজায় রাখা তার আগামী দিনের সফলতার মূল নির্ণায়ক।


    দৈএনকে/জে, আ
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন