একুশে পদক নিয়ে নতুন উদাহরণ স্থাপন করলেন মোহন রায়হান

কবি মোহন রায়হান জটিলতা কাটিয়ে একুশে পদক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে তিনি পুরস্কারের অর্থ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ করবেন না; বরং তা কোনো সামর্থ্যহীন কবি বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে প্রদান করার ঘোষণা দিয়েছেন।
রোববার (১ মার্চ) জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ সিদ্ধান্ত জানান।
পুরস্কার বিতর্ক ও পেছনের গল্প
সংবাদ সম্মেলনে মোহন রায়হান জানান, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার প্রদানকে কেন্দ্র করে একটি অনভিপ্রেত ও বিভ্রান্তিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। তিনি বলেন, “আমি কখনো এই পুরস্কারের প্রত্যাশী ছিলাম না, কোনো তদবির বা প্রচেষ্টা করিনি। বাংলা একাডেমি স্বপ্রণোদিত হয়ে আমাকে মনোনীত করেছিল।”
কবি অভিযোগ করেন, নাম ঘোষণার পর একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালায় এবং ৪১ বছর আগে রচিত একটি কবিতাকে অজুহাত করে পুরস্কার স্থগিত করা হয়। তিনি এটিকে ব্যক্তিগত অপমানের পাশাপাশি ‘মুক্তচিন্তার প্রতি অবমাননা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রধানমন্ত্রী ও নীতিমালা সংস্কারের প্রতি আস্থা
পরবর্তীতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় জানায়, প্রধানমন্ত্রীর সম্মতিক্রমে আগামী ২ মার্চ মোহন রায়হানকে পদক প্রদান করা হবে। জাতীয় কবিতা পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যও পুরস্কার গ্রহণের পক্ষে মত দেন। কবি বলেন, ষড়যন্ত্রের কাছে নতি স্বীকার করা মানে অপশক্তিকে জয়ী করা– এমন যুক্তি ও প্রবীণদের উপদেশের ওপর ভিত্তি করেই তিনি পদক গ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
রাষ্ট্র পুনর্গঠন প্রসঙ্গে মোহন রায়হান জানান, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনায় কলমের ও কথা বলার স্বাধীনতার চাওয়া তিনি ব্যক্ত করেছিলেন। সেই প্রতিশ্রুতির প্রতি আস্থা রেখেই পদক গ্রহণ করছেন। তবে পুরস্কারের অর্থ তিনি গ্রহণ না করে তা সামর্থ্যহীন কবি, লেখক বা সাংস্কৃতিক কর্মীর কল্যাণে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে তিনি পুরস্কার প্রদানের নীতিমালা সংস্কার করে স্বচ্ছ, দলনিরপেক্ষ ও বিশেষজ্ঞনির্ভর প্রক্রিয়া প্রবর্তনের দাবি জানিয়েছেন। অতীতে কবি শামসুর রাহমানকে নিয়ে সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া'র উদারতা স্মরণ করে, নিয়ম অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রীর হাত থেকেই মর্যাদাপূর্ণভাবে পদক গ্রহণের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন।