এ বছর ফিতরা কার ওপর ওয়াজিব, কত টাকা থাকলে দিতে হবে?

সাদাকাতুল ফিতর কী এবং কেন আদায় করা হয়
সাদাকাতুল ফিতর দুটি আরবি শব্দের সমন্বয়ে গঠিত—‘সাদাকা’ অর্থ দান এবং ‘ফিতর’ অর্থ রোজা ভঙ্গ করা। রমজান মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতরের দিনে দরিদ্র ও অসহায় মানুষের মাঝে যে দান বিতরণ করা হয়, সেটিই সাদাকাতুল ফিতর নামে পরিচিত। এটি শরিয়ত নির্ধারিত একটি আর্থিক ইবাদত, যার মাধ্যমে সমাজে সহমর্মিতা ও সাম্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়।
কার ওপর সাদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব
ঈদুল ফিতরের দিন (১ শাওয়াল) ফজরের সময় যদি কোনো মুসলিমের কাছে তার মৌলিক প্রয়োজনীয় সম্পদের বাইরে এমন পরিমাণ সম্পদ থাকে, যার মূল্য সাড়ে বায়ান্ন তোলা রুপার সমান বা তার বেশি, তবে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব হয়।
ফিতরা আদায়ের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক, সুস্থ মস্তিষ্কসম্পন্ন বা মুকিম হওয়া শর্ত নয়। নাবালেগ, মানসিক ভারসাম্যহীন কিংবা মুসাফির ব্যক্তি নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে তাদের পক্ষ থেকেও ফিতরা আদায় করতে হবে। হাদিসে ছোট-বড় সবার পক্ষ থেকে ফিতরা আদায়ের নির্দেশ রয়েছে।
২০২৬ সালে জাকাত ও ফিতরার নেসাব
১৪৪৭ হিজরি/২০২৬ সালের জন্য রাজধানী ঢাকার জামিয়া রাহমানিয়া আরাবিয়া-এর দারুল ইফতা ৫২.৫ ভরি রুপার বাজারমূল্য ধরে জাকাত ও ফিতরার নেসাব নির্ধারণ করেছে ২,৩০,০০০ টাকা।
ঘোষণা অনুযায়ী:
কোনো মুসলিমের কাছে পূর্ণ এক বছর ২,৩০,০০০ টাকা বা সমমূল্যের সম্পদ থাকলে তার ওপর জাকাত ফরজ।
ঈদের দিন সকালে এই পরিমাণ সম্পদ থাকলে তার ওপর ফিতরা ওয়াজিব।
স্বর্ণের জাকাত হিসাব (২০২৬)
বাংলাদেশ জুয়েলার্স এসোসিয়েশন ঘোষিত মূল্য তালিকা অনুযায়ী স্বর্ণের বাজারদর বিবেচনায় জাকাতযোগ্য মূল্য নির্ধারণ করে মোট স্বর্ণমূল্যের ওপর ২.৫% হারে জাকাত দিতে হবে।
স্থানীয় বাজারদর ভিন্ন হতে পারে, তাই নিজ এলাকার দামের ভিত্তিতে হিসাব করা উত্তম।
সাদাকাতুল ফিতরের পরিমাণ (২০২৬)
দারুল ইফতার নির্ধারিত খাদ্যদ্রব্যভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী প্রতি ব্যক্তির ফিতরা নিম্নরূপ হতে পারে (খাদ্যের ধরন অনুযায়ী ভিন্নতা রয়েছে):
গম/আটা: প্রায় ১০০ টাকা
যব: প্রায় ৪৫০ টাকা
খেজুর: প্রায় ২০০০ টাকা
পনির: প্রায় ২৬৫০ টাকা
কিশমিশ: প্রায় ২৮০০ টাকা
তবে জাতীয় সাদাকাতুল ফিতর নির্ধারণ কমিটির পক্ষ থেকে জনপ্রতি সর্বনিম্ন ১১০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ২,৮০৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
কেন ফিতরা গুরুত্বপূর্ণ
সাদাকাতুল ফিতর শুধু একটি আর্থিক দান নয়; এটি রোজার অপূর্ণতা পূরণের মাধ্যম এবং দরিদ্র মানুষের ঈদ আনন্দে অংশগ্রহণের সুযোগ তৈরি করে। সমাজের সামর্থ্যবানদের দায়িত্ব হলো সময়মতো ফিতরা আদায় করে অসচ্ছলদের পাশে দাঁড়ানো।