আফগানিস্তান–পাকিস্তান সম্পর্কে কেন বাড়ছে রক্তক্ষয়ী সংঘাত?

এক সময়ের কৌশলগত মিত্র আজ সরাসরি উত্তেজনায়—পাকিস্তান ও আফগান তালেবান-এর সম্পর্ক এখন গভীর সংকটে। নব্বইয়ের দশকে আঞ্চলিক সমীকরণে প্রভাব বাড়াতে তালেবান উত্থানে ইসলামাবাদের সমর্থন ছিল প্রকাশ্য। কিন্তু ক্ষমতায় ফেরার পর কাবুলের সঙ্গে সেই ঘনিষ্ঠতা টেকেনি; বরং সীমান্তে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও সহিংসতা বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, আফগানিস্তানে তালেবান ক্ষমতায় আসার পর থেকে পাকিস্তানে জঙ্গি হামলা বৃদ্ধি পাওয়াই সম্পর্কে অবনতির বড় কারণ। Chatham House-এর অ্যাসোসিয়েট ফেলো ড. ফারজানা শেখ বলেন, পাকিস্তানের অভিযোগ—কাবুল উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোকে আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানে শরিয়াহ আইন কায়েমে সক্রিয়। ইসলামাবাদ বিশেষ করে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) ইস্যুতে কাবুলের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।
দীর্ঘদিন পাকিস্তান আফগান তালেবান ও টিটিপিকে আলাদা সত্তা হিসেবে দেখালেও পর্যবেক্ষকদের মতে, দুই গোষ্ঠীর আদর্শগত সাযুজ্য রয়েছে। ফলে টিটিপির বিরুদ্ধে কাবুল কঠোর অবস্থান নিতে অনীহা দেখাচ্ছে—এমন ধারণা ইসলামাবাদের নীতিনির্ধারকদের মধ্যে জোরালো।

বর্তমান উত্তেজনার আরেকটি বড় কারণ সীমান্ত প্রশ্ন। আফগানিস্তান এখনো পাকিস্তানের সঙ্গে নির্ধারিত আন্তর্জাতিক সীমানা হিসেবে ডুরান্ড লাইন স্বীকৃতি দেয়নি। সীমান্ত বেড়া, চৌকি স্থাপন ও ক্রস-বর্ডার অভিযানের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে বারবার সংঘর্ষের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।

বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, পূর্ণমাত্রার সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে না। সামরিক সক্ষমতায় পাকিস্তান এগিয়ে থাকলেও আফগানিস্তানের দুর্গম পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও গেরিলা কৌশলে তালেবান যোদ্ধাদের অভিজ্ঞতা লড়াইকে জটিল করে তুলতে পারে। ফলে কূটনৈতিক সমাধান ছাড়া দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।