বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় বিএনপির ভূমিকা

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে রাষ্ট্রপতিকে রক্ষায় বিএনপির ভূমিকা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশের রাজনৈতিক দৃশ্যপট নাটকীয়ভাবে বদলে যায়। প্রশাসন থেকে শুরু করে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন ঘটে। এই সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কীভাবে তার পদে অটল থাকলেন, তা অনেকেরই কৌতূহলের বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। রাজনৈতিক চাপ, গণ-অভ্যুত্থান এবং অন্তর্বর্তী সরকারের বিভিন্ন অস্থিরতা সত্ত্বেও মো. সাহাবুদ্দিন বঙ্গভবনে বহাল থাকেন এবং দেশের সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা রক্ষা করেন।

    অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তাকে পদত্যাগ বা অপসারণের দাবিতে অন্তত দুই দফায় চাপ সৃষ্টি হয়। তাতেও মো. সাহাবুদ্দিন স্থিতিশীলভাবে তার দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের পর ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি নতুন নির্বাচিত সরকারের প্রধানমন্ত্রীকে শপথ গ্রহণ করান।

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন একটি দৈনিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, “আমার দুঃসময়ে বিএনপির সহযোগিতা শতভাগ ছিল। তারা আমাকে সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা বজায় রাখার পরামর্শ দিয়েছে এবং কোনো অসাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ বা অপসারণের পক্ষে ছিলেন না।”

    অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও তাকে অপসারণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে বিএনপি জোট এবং সশস্ত্র বাহিনী তার পাশে দাঁড়িয়ে তাকে আশ্বস্ত করে। তিন বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সমর্থন তাকে পদে অবিচল রাখে। রাষ্ট্রপতি বলেন, "মহামান্য, আপনি হচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান। আপনার পরাজয় মানে পুরো সশস্ত্র বাহিনীরই পরাজয়। আমরা যেকোনো মূল্যে এটি রোধ করব।"

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ করলে নির্বাচন এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতায় সমস্যা সৃষ্টি হতো। তাই বিএনপি এ সময়ে পদক্ষেপ না নেয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

    শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরানোর দাবি ওঠে। ২২ অক্টোবর ২০২৪ সালে বঙ্গভবন ঘেরাওয়ের পর ২৩ অক্টোবর বিএনপির তিনজন সিনিয়র নেতা রাষ্ট্রপতি বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এরপর বিএনপি প্রকাশ্যে বলেন, রাষ্ট্রপতি পদ শূন্য হলে সাংবিধানিক শূন্যতা তৈরি হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতর থেকেও পদত্যাগ বা অপসারণের চেষ্টা করা হয়। রাষ্ট্রপতি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের কিছু নেতা পদত্যাগের জন্য চাপ দিয়েছিল। তবে বিএনপি ও তাদের জোটসঙ্গীরা সাংবিধানিক ধারাবাহিকতা অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য আমাকে সমর্থন দিয়েছেন। এই কারণে অপসারণের উদ্যোগ ব্যর্থ হয়।”

    রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তার বিদেশ সফরের তথ্য, চুক্তি সংক্রান্ত বিবরণী এবং ছবি যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। তিনি অভিযোগ করেছেন, প্রেস উইংয়ের কিছু কর্মকর্তার মাধ্যমে তাকে তথ্য না দিয়ে কাজ চালানো হয়েছে। এছাড়া বিদেশে রাষ্ট্রপতির ছবি নামানো ও চুক্তি বিষয়ে অবহিত না করার অভিযোগও করেছেন।

    বিশ্লেষকরা মনে করেন, বিএনপি রাষ্ট্রপতিকে অপসারণের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছিল কারণ তারা দ্রুত নির্বাচন আয়োজন ও দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতে চেয়েছিল। রাষ্ট্রপতি বলেন, “বিশেষ করে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আমাকে স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন যে তারা আমাকে সমর্থন করছেন এবং কোনো অসাংবিধানিক পদক্ষেপ গ্রহণের পক্ষে নেই।” রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের এই অবস্থান এবং বিএনপির সমর্থন দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি এটিকে “কঠিন সময়ের সবচেয়ে বড় সমর্থন” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

    মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে তিনি আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ছিলেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তার অবিচল থাকার কারণে দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতা থেকে রক্ষা পায় এবং সংবিধান অনুসারে নির্বাচনের আয়োজন সুসম্পন্ন হয়।


    বিবিসি বাংলা
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন