বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • কীভাবে শৈশবের অভ্যাস বন্ধুত্বকে প্রভাবিত করে

    কীভাবে শৈশবের অভ্যাস বন্ধুত্বকে প্রভাবিত করে
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    বন্ধুত্ব মানুষের জীবনের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্পদ। কিন্তু অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের সম্পর্ক টিকিয়ে রাখা একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। সাম্প্রতিক এক মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বন্ধুত্ব বজায় রাখতে না পারার মূল কারণগুলোর শিকড় লুকিয়ে থাকে আমাদের শৈশবের অম্ল-মধুর অভিজ্ঞতার মাঝে। মূলত ৮টি বিশেষ শৈশব পরিস্থিতি বড় হওয়ার পর মানুষের সামাজিক আচরণে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।

    শৈশবের সেই ৮টি নেতিবাচক পরিস্থিতি:
    ১. সবসময় ভয়ে বড় হওয়া:
    যে শিশুরা মা-বাবার মেজাজ বুঝে ভয়ে ভয়ে বড় হয়, তারা বড় হয়ে বন্ধুদের সামনেও নিজের আসল ব্যক্তিত্ব প্রকাশ করতে পারে না। কোনো কথা বললে বন্ধু রাগ করবে কিনা—এই ভয় তাদের সম্পর্ককে গভীর হতে দেয় না।

    ২. সমস্যার সমাধান না শেখা: শৈশবে পরিবারে চিৎকার বা কথা বন্ধ করে দেওয়ার সংস্কৃতি দেখলে, বড় হয়ে বন্ধুত্বের সামান্য মতভেদেও তারা ঘাবড়ে যায়। হয় তারা চুপ হয়ে যায়, না হয় সম্পর্ক ছিন্ন করে দেয়। তারা বিশ্বাস করতে পারে না যে ঝগড়ার পরেও সম্পর্ক টিকে থাকতে পারে।

    ৩. অকাল অভিভাবকত্ব: অনেক শিশু ছোটবেলাতেই পরিবারের মানসিক ভার বহন করে। বড় হয়ে এরা বন্ধুদেরও অতিরিক্ত সেবা করতে চায়। কিন্তু প্রতিদান না পেলে একসময় তারা ক্লান্ত ও অভিমানী হয়ে পড়ে, যা দূরত্ব তৈরি করে।

    ৪. বিশ্বাসের অভাব: শৈশবে কারো গোপন কথা ফাঁস হয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলে তারা মানুষকে বিশ্বাস করতে ভয় পায়। "সবাইকে সব কথা বলা যাবে না"—এই মানসিকতা কাউকে খুব কাছে আসতে দেয় না।

    ৫. অস্থায়ী পরিবেশ: বারবার স্কুল বা শহর বদলালে শিশুদের মনে ধারণা জন্মে যে সবকিছুই অস্থায়ী। তাই বড় হয়ে বিচ্ছেদের ভয়ে তারা বন্ধুদের সাথে খুব বেশি আবেগীয়ভাবে জড়াতে চায় না।

    ৬. আবেগ প্রকাশে বাধা: "কান্না করা দুর্বলতা"—শৈশবে এমন কথা শুনলে বড় হয়ে তারা নিজের আবেগ প্রকাশ করতে লজ্জিত বোধ করে। ফলে বন্ধুরা তাদের প্রকৃত অবস্থা বুঝতে পারে না।

    ৭. বিষাক্ত বন্ধুত্বের প্রভাব: মা-বাবার বন্ধুদের মাঝে গীবত বা ষড়যন্ত্র দেখলে শিশুদের মনে বন্ধুত্ব সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়। তারা বড় হয়ে একাকী থাকতেই বেশি পছন্দ করে।

    ৮. ক্রমাগত তুলনা: শৈশবে অন্যের সাথে তুলনা করলে বড় হয়ে বন্ধুত্বের মাঝেও তারা প্রতিযোগিতার মনোভাব রাখে। বন্ধুর সাফল্যে আনন্দ পাওয়ার বদলে তারা হীনম্মন্যতায় ভোগে, যা সুন্দর সম্পর্ক নষ্ট করে দেয়।

    এই অভ্যাসগুলো কারো ব্যক্তিত্বের স্থায়ী অংশ নয়, বরং পরিস্থিতির কারণে তৈরি হওয়া একটি প্যাটার্ন মাত্র। নিজের এই আচরণের পেছনের কারণগুলো সচেতনভাবে বুঝতে পারলে এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিলে সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব। মনে রাখতে হবে, অতীতকে বদলানো না গেলেও বর্তমানের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করা আপনার হাতেই।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন