অস্থির বিশ্বে জলবায়ু সহযোগিতাই স্থিতিশীলতার পথ; সাইমন স্টিল

তুরস্কের ইস্তাম্বুলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে COP31-এর মনোনীত সভাপতি ও জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন কাঠামো কনভেনশনের (UNFCCC) নির্বাহী সচিব Simon Stiell বলেছেন, বৈশ্বিক অস্থিরতার এই সময়ে জলবায়ু সহযোগিতাই হতে পারে নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির সবচেয়ে কার্যকর পথ। তিনি জানান, ২০২৬ সালে তুরস্কের আনতালিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য COP31 হবে “বাস্তবায়নের যুগ”-এর সূচনা, যেখানে লক্ষ্য থাকবে প্রতিশ্রুতি পূরণে গতি ও পরিসর বাড়ানো।
‘বাস্তবায়নের যুগ’ শুরু করার আহ্বান
স্টিল বলেন, প্যারিস চুক্তির পর গত এক দশকে পরিচ্ছন্ন জ্বালানিতে বিনিয়োগ ২০০ বিলিয়ন ডলার থেকে বেড়ে বছরে ২ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। ২০২৫ সালে বৈশ্বিক জ্বালানি রূপান্তর আরও জোরদার হয়েছে; নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ জীবাশ্ম জ্বালানির তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। তাঁর ভাষায়, এখন প্রয়োজন ২০২৩ সালের প্রথম বৈশ্বিক স্টকটেকে নির্ধারিত লক্ষ্য—২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানি দক্ষতা দ্বিগুণ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানি তিনগুণ—বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, “জলবায়ু পদক্ষেপ কেবল পরিবেশ নয়, অর্থনীতি, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার সঙ্গেও সরাসরি যুক্ত। নবায়নযোগ্য জ্বালানি এখন সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও পরিচ্ছন্ন বিকল্প।”
যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে
সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্যারিস চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার প্রশ্নে স্টিল বলেন, দরজা খোলা রয়েছে—যুক্তরাষ্ট্র অতীতে ফিরে এসেছে, ভবিষ্যতেও আসতে পারে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে লক্ষ্য করে মন্তব্য না করে বলেন, “বিজ্ঞান ও অর্থনীতি স্পষ্ট—কয়লার চেয়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানি সস্তা। গত বছর নবায়নযোগ্য খাতে ২ ট্রিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে, যেখানে জীবাশ্ম জ্বালানিতে ১ ট্রিলিয়ন।
অর্থায়ন ও কার্বন বাজার
তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, বাকুতে অনুষ্ঠিত COP29-এ উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য বার্ষিক জলবায়ু অর্থায়ন ১০০ বিলিয়ন ডলার থেকে ৩০০ বিলিয়নে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতি এসেছে এবং ১.৩ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রোডম্যাপ নিয়েও কাজ চলছে। একই সঙ্গে আর্টিকেল ৬-এর অধীনে কার্বন বাজারের কার্যকরীকরণ ভবিষ্যতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য নতুন অর্থায়নের পথ খুলে দিতে পারে।
তুরস্কের ভূমিকা ও প্রত্যাশা
তুরস্কের জ্বালানি মিশ্রণে কয়লার অংশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও স্টিল বলেন, কোনো দেশ বড় জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদক হলেই যে তারা সফল COP আয়োজন করতে পারবে না—এমন কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁর মতে, শক্ত নেতৃত্ব ও সুস্পষ্ট কর্মপরিকল্পনা থাকলে আনতালিয়ার সম্মেলন বাস্তবায়নমুখী শক্ত বার্তা দিতে পারবে।
অন্তর্ভুক্তি ও বৈশ্বিক সহযোগিতা
আফগানিস্তানের অংশগ্রহণ নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, নিবন্ধন এখনো খোলা হয়নি—কোন দেশ অংশ নেবে, তা পরবর্তীতে জানা যাবে। তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় বৈশ্বিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।
আজকের অনিশ্চিত ভূরাজনীতির মাঝেও জলবায়ু সহযোগিতা থামবে না। বরং এই অস্থিরতার কারণেই আমাদের আরও দ্রুত ও সম্মিলিতভাবে এগোতে হবে—মানুষ, সমৃদ্ধি ও পৃথিবীর স্বার্থে।