সাঁতার: মস্তিষ্কের জন্য দৌড়ের চেয়ে বেশি উপকারী?

শরীরচর্চা বলতেই আমরা সাধারণত দৌড়ানো বা জিমের কথা ভাবি। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা ও রক্তপ্রবাহ বৃদ্ধিতে দৌড়ানোর চেয়েও বেশি কার্যকর হতে পারে সাঁতার। বিখ্যাত বৈজ্ঞানিক সাময়িকী ‘জার্নাল অফ ফিজিওলজি’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
কেন সাঁতার এগিয়ে?
সাঁতার কাটার সময় মস্তিষ্কের দিকে রক্তপ্রবাহ দৌড়ানোর তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পায়। এর পেছনে প্রধান কারণ হলো সাঁতারের বিশেষ শারীরিক ভঙ্গি এবং শ্বাস-প্রশ্বাসের ধরন।
১. অনুভূমিক ভঙ্গি: দৌড়ানোর সময় আমাদের শরীর খাড়া থাকে, ফলে মাধ্যাকর্ষণের বিপরীতে হৃদ্যন্ত্রকে মস্তিষ্কে রক্ত পাঠাতে হয়। কিন্তু সাঁতারের সময় শরীর পানিতে অনুভূমিক বা শোয়া অবস্থায় থাকে। এতে মাধ্যাকর্ষণের চাপ কমে যায় এবং হৃদ্যন্ত্র অনেক বেশি সহজে ও দক্ষতার সাথে মস্তিষ্কে রক্ত পাঠাতে পারে।
২. ছন্দবদ্ধ শ্বাস-প্রশ্বাস: সাঁতারের সময় আমরা একটি নির্দিষ্ট ছন্দে শ্বাস গ্রহণ ও বর্জন করি। এই নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস রক্তে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের ভারসাম্য বজায় রাখে এবং মস্তিষ্কের রক্তনালিগুলোর কার্যকারিতা বাড়িয়ে অক্সিজেন সরবরাহ নিশ্চিত করে।
৩. পুরো শরীরের নড়াচড়া: পানিতে শরীরের প্রতিটি পেশি সক্রিয় থাকে, যা সামগ্রিক রক্ত সঞ্চালন ব্যবস্থাকে অন্য যেকোনো অ্যারোবিক ব্যায়ামের চেয়ে বেশি শক্তিশালী করে তোলে।
স্নায়বিক স্বাস্থ্যের জন্য বাড়তি সুফল
সাঁতার শুধু একটি সাধারণ ব্যায়াম নয়; এটি স্নায়বিক স্বাস্থ্যের জন্য এক অনন্য টনিক। নিয়মিত সাঁতার কাটলে মস্তিষ্কের কোষগুলোর কর্মক্ষমতা বাড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে স্মৃতিশক্তি উন্নত হয়। বিশেষ করে যারা দৌড়াতে গেলে হাঁটু বা পায়ের গিঁটে ব্যথা অনুভব করেন, তাদের জন্য সাঁতার একটি আদর্শ বিকল্প।
তবে গবেষণায় এটিও উল্লেখ করা হয়েছে যে, এর প্রভাব ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। বয়স, শারীরিক সক্ষমতা এবং সাঁতারের ধরনের ওপর ভিত্তি করে ফলাফলে তারতম্য ঘটতে পারে। তবুও সার্বিকভাবে মস্তিষ্কের সুস্বাস্থ্যের জন্য স্থলভিত্তিক ব্যায়ামের তুলনায় সাঁতারকে বিজ্ঞানীরা একটি বিশেষ ধাপ উপরে রাখছেন।
আপনি যদি আপনার মস্তিষ্ককে আরও সচল এবং তীক্ষ্ণ রাখতে চান, তবে সপ্তাহে কয়েক দিন সুইমিং পুলে সময় কাটানো হতে পারে আপনার সেরা সিদ্ধান্ত।