দুই মিনিটেই ঘুম! কি সম্ভব মিলিটারি স্লিপ মেথডে?

দ্রুত ঘুমিয়ে পড়তে কে না চান! কিন্তু বিশ্বে প্রচুর মানুষ নিদ্রাহীনতা বা ঘুমানোর সমস্যায় ভোগেন। একাধিক গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের ৫ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ অনিদ্রায় ভোগেন, যা মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক।
অনিদ্রায় ভোগা মানুষদের মধ্যে অনেকেই রাত কাটাতে সমস্যার মুখোমুখি হন এবং ঘুম আনার বিভিন্ন কৌশল খুঁজে থাকেন। এর মধ্যে সম্প্রতি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে উঠেছে ‘মিলিটারি স্লিপ মেথড’, যা দাবি করা হচ্ছে যে কৌশল অনুসরণ করলে মাত্র দুই মিনিটে যে কেউ ঘুমিয়ে পড়তে পারবেন।
গবেষকরা বলেন, এই পদ্ধতি মূলত শারীরিক ও মানসিক শিথিলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এটি চোখ, মুখ, হাত-পা ও শরীরের অন্যান্য অংশকে ধীরে ধীরে শিথিল করার মাধ্যমে কাজ করে। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির ঘুমের অভ্যাস ভিন্ন, তাই ফলাফল ভিন্ন হতে পারে।
বিশ্বের এই ঘুমের কৌশল নিয়ে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ইতিমধ্যেই উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। অনেকে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন, আর কিছু মানুষ এটিকে কার্যকর প্রমাণিত বলে দাবি করছেন।
এই ট্রেন্ড টিকটকে ইতোমধ্যে ভাইরাল হয়ে গেছে। টিকটকের সেই ভিডিওগুলো দেখেছে লাখ লাখ মানুষ। সেই ভিডিওগুলোয় যেসব কৌশলের কথা বলা হয়েছে সেগুলো অনুসরণ করলে তাৎক্ষণিক ঘুম আসবে বলে দাবি করা হয়েছে।
মিলিটারি স্লিপ মেথডের মূল কৌশল
গবেষকরা এবং ঘুমের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিলিটারি স্লিপ মেথড মূলত শারীরিক ও মানসিক শিথিলতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই পদ্ধতির ধাপগুলো সাধারণত নিম্নরূপ:
শরীরের পেশি শিথিল করা – হাত-পা, মুখ এবং চোখ ধীরে ধীরে শিথিল করা।
শ্বাস-প্রশ্বাস নিয়ন্ত্রণ – গভীর ও ধীরে ধীরে শ্বাস নেওয়া, যা স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে।
মানসিক শিথিলতা – দিনের চাপ, চিন্তা ও উদ্বেগ থেকে মনকে মুক্ত করা।
চোখ বন্ধ রেখে নির্দিষ্ট কল্পনা – যেমন শান্ত সমুদ্র, অন্ধকার ঘর বা নিরিবিলি জায়গা কল্পনা করা।
মিলিটারি স্লিপ মেথডের ইতিহাস
এই পদ্ধতি মূলত মার্কিন সেনাবাহিনী দ্বারা তৈরি করা হয়, যাতে যোদ্ধারা যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত ঘুমাতে সক্ষম হন। সেনাদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, পদ্ধতিটি মেনে চললে মাত্র ২ মিনিটে ঘুমের গভীরে প্রবেশ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্রতিটি ব্যক্তির ঘুমের ধরন ভিন্ন। তাই মিলিটারি স্লিপ মেথড সকলের ক্ষেত্রে একরকম কার্যকর হবে এমন নিশ্চয়তা নেই। তবে যারা নিয়মিত অনিদ্রায় ভুগছেন, তাদের জন্য এটি একটি সহজ ও প্রাকৃতিক ঘুম আনার পদ্ধতি হতে পারে।
বিশ্বজুড়ে মানুষ এই কৌশল চেষ্টা করছেন এবং অনেকে সামাজিক মাধ্যমে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করছেন। তারা বলছেন, নিয়মিত প্রয়োগ করলে ঘুমের মান উন্নত হয় এবং সকালকালের সজাগতা বৃদ্ধি পায়।