পেঁয়াজের জাদু: রান্না নয়, রূপচর্চাতেও সাহায্য

রান্নাঘরে পেঁয়াজের উপস্থিতি নতুন কিছু নয়। প্রায় প্রতিদিনই কোনো না কোনো পদে লাগে এটি। কিন্তু জানেন কি, সেই পেঁয়াজই রূপচর্চার উপকরণও হতে পারে? শুনতে অবাক লাগলেও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পেঁয়াজের নিয়মিত ব্যবহার ত্বকের জেল্লা বাড়াতে, বলিরেখা কমাতে এবং ত্বককে প্রাণবন্ত রাখতে সাহায্য করতে পারে। সঠিক পদ্ধতি মেনে ব্যবহার করলে ফলও পাওয়া সম্ভব।
পেঁয়াজের রস বহুদিন ধরেই কেশচর্চায় ব্যবহৃত হচ্ছে। নতুন চুল গজানো থেকে শুরু করে চুল পড়া কমাতে পেঁয়াজের রসের কথা অনেকেই জানেন। এর মূল কারণ পেঁয়াজে থাকা সালফার। এই উপাদান মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, হেয়ার ফলিকল মজবুত করে। তবে চুলের পাশাপাশি ত্বকের যত্নেও পেঁয়াজ যে কার্যকর, সেটাও এখন বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
পেঁয়াজে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান, যা ত্বকের ভেতর থেকে কাজ করে। নিয়মিত ব্যবহার করলে ত্বকের দাগছোপ হালকা হতে পারে, কমতে পারে বলিরেখা। পাশাপাশি ত্বকের জেল্লাও বাড়ে। তবে সরাসরি পেঁয়াজ ঘষে নেওয়ার বদলে কিছু উপাদানের সঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করাই ভালো।
পেঁয়াজের রস ও মধু
ত্বক পরিষ্কার রাখতে এবং উজ্জ্বলতা বাড়াতে এই প্যাক বেশ উপকারী। সমপরিমাণ পেঁয়াজের রস ও মধু ভালো করে মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট রেখে কুসুম গরম পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। এতে ত্বকের পোরস পরিষ্কার হয়, রক্ত সঞ্চালন বাড়ে।
পেঁয়াজের রস ও টক দই
ত্বকে জমে থাকা মৃত কোষ তুলতে আলাদা করে স্ক্রাব করার দরকার নেই। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে টক দই মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০-১৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। ত্বক হবে নরম ও উজ্জ্বল।
পেঁয়াজের রস ও লেবু
চটজলদি জেল্লা চাইলে এই মিশ্রণ কাজে আসে। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা পাতিলেবুর রস মিশিয়ে মুখে লাগান। ১০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। তবে যাঁদের ত্বক স্পর্শকাতর, তাঁদের জন্য এই প্যাক এড়িয়ে চলাই ভালো।
পেঁয়াজের রস ও অ্যালোভেরা
শুষ্ক ও খসখসে ত্বকের জন্য এটি বেশ কার্যকর। পেঁয়াজের রসের সঙ্গে অ্যালোভেরা জেল মিশিয়ে মুখে লাগান। এতে ত্বকের আর্দ্রতা বজায় থাকে, ত্বক দেখায় প্রাণবন্ত।
পেঁয়াজের রস ও বেসন
তৈলাক্ত ত্বকের অতিরিক্ত তেল কমাতে এই প্যাক ভালো কাজ করে। পেঁয়াজের রস ও বেসন মিশিয়ে মুখে লাগান। এতে অতিরিক্ত সেবাম নিয়ন্ত্রণে থাকে, ত্বকের টেক্সচারও উন্নত হয়।
তবে যেকোনো প্যাক ব্যবহারের আগে হাতের ছোট অংশে পরীক্ষা করে নেওয়া জরুরি। অস্বস্তি হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। ঘরোয়া উপকরণ হলেও ত্বকের ধরন বুঝে ব্যবহার করাই রূপচর্চার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।