বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
Natun Kagoj
শিরোনাম
  • পুলিশি বাধায় আটকে এনসিপি, ‘মামলা না করে ফিরব না’ বললেন নাহিদ শাপলা চত্বরের মামলায় লতিফ সিদ্দিকী গ্রেপ্তার এইচআরডব্লিউর প্রতিবেদন একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট: চিফ প্রসিকিউটর শিল্পে গ্যাস সংকট নিরসনে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত ভারত: হাইকমিশনার ক্যান্টিনের খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও সেবার মান যাচাই করলেন পর্যটনমন্ত্রী পেপ্যাল সেবা চালুর পথ খুলল বাংলাদেশ ব্যাংক ব্রুনাইয়ে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা বাড়াতে ঢাকার আহ্বান লিটনের নেতৃত্ব, বিপিএল ও কোচিং স্টাফ—বিসিবি সভায় যেসব ইস্যু পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী
  • যে রোগে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে চিকিৎসা জরুরি

    যে রোগে স্বামী-স্ত্রীর একসঙ্গে চিকিৎসা জরুরি
    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    নারীদের মধ্যে ইউরিনারি বা ভ্যাজাইনাল সংক্রমণ একটি সাধারণ স্বাস্থ্য সমস্যা। প্রতি চার নারীর মধ্যে অন্তত একজন জীবনে একবার এই সমস্যার সম্মুখীন হন। অনেক সময় ইউটিআই-এর জন্য ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ইস্ট ইনফেকশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে শুধুমাত্র নারীরাই আক্রান্ত হন—এই ধারণা ভুল। পুরুষের যৌনাঙ্গেও একই ধরনের সংক্রমণ হতে পারে, কারণ এটি মূলত ব্যাকটেরিয়া বা ফাঙ্গাসের কারণে হয়, যা উভয় লিঙ্গকে প্রভাবিত করতে সক্ষম।

    অস্বাভাবিক বৃদ্ধি সংক্রমণের মূল কারণ। যখন ক্যান্ডিডা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তখন সংক্রমণ ছড়ায়। গর্ভাবস্থা, জন্মনিয়ন্ত্রণের বড়ি, এমন কি ঋতুচক্রের সময় হরমোনের পরিবর্তনও এই ইনফেকশনকে প্ররোচিত করতে পারে।

    ডায়াবেটিসের কারণে রক্তে শর্করার পরিমাণ বাড়লে মূত্রে উপস্থিত ব্যাকটেরিয়ার ওপর প্রভাব পড়ে, যা ফাঙ্গাল সংক্রমণকে উস্কে দেয়। শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হলে ফাঙ্গাল সংক্রমণের ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়, যেমন এইচআইভি, কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের কারণেও হতে পারে।

    অপরিচ্ছন্ন বা ভেজা অন্তর্বাস পরা, ঘর্মাক্ত অন্তর্বাস দীর্ঘ সময় ধরে ব্যবহার করাও সংক্রমণের কারণ হতে পারে। এছাড়া যৌনাঙ্গে সুগন্ধি যুক্ত ট্যাম্পন প্যাড ব্যবহার করলে ইস্ট সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

    পর্যবেক্ষণ ও গবেষণায় দেখা গেছে, যদি একজন নারী ভ্যাজাইনাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হয়, তবে সংক্রমণ পুরোপুরি নিরাময় হয় না যতক্ষণ না তার যৌনসঙ্গীরও চিকিৎসা করা হয়। পুরুষ বা নারী, যিনি সম্পর্ক বা বিবাহিত জীবনে রয়েছেন,তাদের মধ্যে এই ধরনের সংক্রমণ বেশি দেখা যায়। একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়ার মাধ্যমে পুনরায় সংক্রমণ হওয়ার ঝুঁকি কমে যায় এবং সম্পূর্ণ সুস্থতা আসে।

    সাধারণত এই রোগকে শুধু নারীদের সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। কিন্তু এটি পুরুষদের ওপরও সমানভাবে প্রভাব ফেলে। পৃথিবীতে প্রতি তিনজন নারীর মধ্যে একজন ভ্যাজাইনাল ইনফেকশনে আক্রান্ত হন। সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হলে, পুনঃসংক্রমণ প্রতিরোধ করতে এবং রোগের সম্প্রসারণ আটকাতে, দম্পতিকে একসঙ্গে চিকিৎসা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

    অস্ট্রেলিয়ার মোনাশ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা জানান, নারীদের ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের চিকিৎসা দেওয়ার পরও, মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যে রোগ আবার দেখা দিচ্ছে। এর মূল কারণ হলো, এই ব্যাকটেরিয়া পুরুষের শরীরেও থাকে, বিশেষত পুরুষাঙ্গের ত্বক ও মূত্রনালীতে। তাই, যেসব পুরুষের শরীরে ব্যাকটেরিয়া থাকে, তাদের সঙ্গে শারীরিক মিলনের ফলে রোগ নারী সঙ্গীর শরীরে পুনরায় ছড়াতে পারে।

    গবেষকরা ৮১ জন দম্পতির উপর পরীক্ষা চালিয়েছেন। দেখা গেছে, যদি উভয়েই একসঙ্গে চিকিৎসা নেন, তাহলে রোগ আবার শরীরে থাবা বসায় না এবং সম্পূর্ণ নিরাময় সম্ভব হয়। নারীদের জন্য সাধারণত খাওয়ার ওষুধ ব্যবহৃত হয়, আর পুরুষদের জন্য ক্রিমজাতীয় ওষুধ দেওয়া হয়। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই তারা সুস্থ হয়ে উঠেছেন।


    গুগল নিউজে (Google News) নতুন কাগজ’র খবর পেতে ফলো করুন

    সর্বশেষ

    আরও পড়ুন