অ্যানিমিয়া দূর করতে শুধু পালংশাক যথেষ্ট নয়

অনেকেই মনে করেন, পালংশাক খেলে আয়রনের ঘাটতি বা অ্যানিমিয়া দূর হয়ে যাবে। প্রতি ১০০ গ্রাম পালংশাকে প্রায় ২.৭ মিলিগ্রাম আয়রন থাকলেও, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরোটা শরীর গ্রহণ করতে পারে না।
কারণ কী?
১. অক্সালেট—নীরব বাধা
পালংশাকে প্রাকৃতিকভাবে Oxalate নামক যৌগ থাকে। এটি আয়রনের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার শোষণ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। রান্না করলে অক্সালেট কিছুটা কমলেও পুরোপুরি দূর হয় না। তাই পালংশাকে থাকা আয়রনের বড় অংশ কার্যকরভাবে শোষিত হয় না।
২. আয়রনের ধরন
পালংশাকে থাকা আয়রন হলো Non-heme iron, যা তুলনামূলকভাবে কম শোষিত হয় (প্রায় ২–১০%)। অন্যদিকে প্রাণিজ খাবারে থাকা আয়রন হলো Heme iron, যা শরীর সহজে ও দ্রুত শোষণ করতে পারে (প্রায় ১৫–৩৫%)।
প্রাণিজ উৎসের আয়রন বেশি কার্যকর
সমপরিমাণ খাবার থেকে প্রাণিজ উৎসের আয়রন উদ্ভিজ্জ উৎসের তুলনায় ২–৩ গুণ বেশি কার্যকরভাবে শোষিত হয়।
অতিরিক্ত পালংশাকের ক্ষতি
শুধু পালংশাকের ওপর নির্ভর করলে আয়রনের ঘাটতি পূরণ হবে না। অতিরিক্ত অক্সালেট অন্যান্য খাবার থেকে আয়রন শোষণেও বাধা দিতে পারে।
আয়রন ঘাটতি দূর করতে কোন খাবার খাবেন
- গরু বা খাসির মাংস
- কলিজা
- ডিমের কুসুম
- মাছ
- ভিটামিন C সমৃদ্ধ ফল (লেবু, আমলকি, পেয়ারা) – আয়রন শোষণ বাড়ায়
বিশেষ পরামর্শ:
চা বা কফি খাওয়ার সময় এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো আয়রন শোষণ কমায়।
পালংশাক স্বাস্থ্যকর খাবার হলেও এটি রক্তশূন্যতা দূর করার প্রধান সমাধান নয়। আয়রনের ঘাটতি থাকলে, প্রাণিজ প্রোটিন ও হিম-আয়রন সমৃদ্ধ খাবারের ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
দৈএনকে/জে, আ