ঊনসত্তরের আন্দোলনের পথ ধরেই এসেছে মহান স্বাধীনতা

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের আদর্শ ও চেতনার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ‘ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান’ দিবস উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক অনন্য মাইলফলক, যার ধারাবাহিক আন্দোলন ও সংগ্রামের পথ ধরেই জাতি মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এই গণআন্দোলনের মূল্যবোধ আজও আমাদের জন্য প্রাসঙ্গিক ও অনুপ্রেরণার উৎস।
ড. ইউনূস আরও বলেন, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় ঊনসত্তরের চেতনা ধারণ করেই একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
বাণীতে তিনি বলেন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান বাংলাদেশের স্বাধিকার ও স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসের এক তাৎপর্যপূর্ণ অধ্যায়। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলন, ঐতিহাসিক ৬ দফা আন্দোলন, পরবর্তীকালে ১১ দফা ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে আমরা অর্জন করেছি মহান স্বাধীনতা।
প্রধান উপদেষ্টা বাণীতে আরও বলেন, তৎকালীন স্বৈরাচারী অপশাসন ও দমনপীড়ন থেকে মুক্তির দাবিতে ১৯৬৯ সালের পুরো জানুয়ারি মাস ছিল আন্দোলনে উত্তাল। ছাত্র-জনতাসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে ২৪ জানুয়ারি সে আন্দোলন রূপ নেয় এক ব্যাপক গণবিস্ফোরণে। সংগ্রামী জনতা শাসকগোষ্ঠীর দমনপীড়নের প্রতিবাদে সান্ধ্য আইন ভঙ্গ করে মিছিল বের করে। মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন ঢাকার নবকুমার ইনস্টিটিউটের নবম শ্রেণির ছাত্র মতিউর রহমান মল্লিক। গুলিতে শহীদ হন মকবুল, আনোয়ার, রুস্তম, মিলন, আলমগীরসহ আরও অনেকে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানসহ সব গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে তাদের এ আত্মত্যাগ এ দেশের তরুণ সমাজকে যুগিয়েছে অফুরন্ত সাহস ও অনুপ্রেরণা।
শেষে তিনি স্মৃতিবিজড়িত এ দিনে গণঅভ্যুত্থানের সব শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।