নির্বাচন পর্যবেক্ষণে আকুফো-আদোর নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের কমনওয়েলথ মিশন

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই চার্টারের ওপর অনুষ্ঠিতব্য গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য বাংলাদেশে একটি উচ্চপর্যায়ের পর্যবেক্ষক দল পাঠাতে যাচ্ছে কমনওয়েলথ। মোট ১৪ সদস্যের এই আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক দলের নেতৃত্ব দেবেন ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট এইচ ই নানা আকুফো-আদো।
কমনওয়েলথ সূত্র জানায়, নির্বাচন ও গণভোটের সার্বিক পরিবেশ, ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়া, নির্বাচনী প্রচারণা, ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচন পরবর্তী পরিস্থিতি মূল্যায়ন করাই এই দলের মূল লক্ষ্য। পর্যবেক্ষক দলটি ভোটের আগের দিনগুলো থেকে মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করবে এবং ভোটগ্রহণের দিন বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন করবে।
এছাড়া তারা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করবেন। এর মধ্যে থাকবে নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তা, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধি, নাগরিক সমাজের সদস্য, গণমাধ্যমকর্মী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিনিধিরা। পর্যবেক্ষণ শেষে কমনওয়েলথ একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে বলে জানা গেছে।
কমনওয়েলথের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সদস্য রাষ্ট্রগুলোর গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া শক্তিশালী করা এবং স্বচ্ছ, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করাই এই পর্যবেক্ষক মিশনের উদ্দেশ্য। বাংলাদেশে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচন ও গণভোটকে তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ঘানার সাবেক প্রেসিডেন্ট নানার আকুফো-আদোর নেতৃত্বে এই পর্যবেক্ষক দলের আগমন নির্বাচনের আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা ও স্বচ্ছতা বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) লন্ডনে এক ঘোষণায় এ কথা জানান কমনওয়েলথের মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে একযোগে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের দল মোতায়েনের মাধ্যমে আমরা গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা শক্তিশালী করা এবং দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনী প্রক্রিয়ার মৌলিক গুরুত্ব পুনর্ব্যক্ত করছি। বাংলাদেশে আমাদের উপস্থিতি কেবল পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব থেকেই পরিচালিত নয়, বরং এই গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক সন্ধিক্ষণে বাংলাদেশের জনগণের আকাঙ্ক্ষা সমুন্নত রাখার প্রতিশ্রুতির অংশ।
কমনওয়েলথ মহাসচিব আরও বলেন, বাংলাদেশের জনগণের পক্ষে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের প্রস্তুতিতে নতুন বছরের শুরুতে নিজেদের সময় দেবার জন্য এই বিশিষ্ট কমনওয়েলথ নাগরিকদের প্রতি আমি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।
প্রতিনিধি দলের প্রধান আকুফো-আদোর সঙ্গে কমনওয়েলথভুক্ত বিভিন্ন দেশের রাজনীতি, আইন, গণমাধ্যম, জেন্ডার ও নির্বাচন ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞরা যোগ দেবেন। পর্যবেক্ষক দলকে সহায়তা করবে কমনওয়েলথ সেক্রেটারিয়েট -এর একটি দল, যার নেতৃত্বে থাকবেন ইলেক্টোরাল সাপোর্ট সেকশনের প্রধান ও উপদেষ্টা লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজ।
কমনওয়েলথ পর্যবেক্ষক দলের ম্যান্ডেট হলো নির্বাচনী প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা এবং নির্বাচন ও গণভোট বিশ্বাসযোগ্য, স্বচ্ছ ও অন্তর্ভুক্তিমূলকভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে কি না—সে বিষয়ে একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করা। দলটি বাংলাদেশের জাতীয় আইনসহ যেসব মানদণ্ডে বাংলাদেশ নিজেকে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ করেছে, তার আলোকে নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পরিচালনা সম্পর্কে প্রতিবেদন দেবে।
মিশন সম্পন্ন হওয়ার পর পর্যবেক্ষক দল তাদের পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশসম্বলিত একটি প্রতিবেদন কমনওয়েলথ মহাসচিবের কাছে জমা দেবে। পরবর্তীতে এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকার, বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন, রাজনৈতিক দলসমূহ, সকল কমনওয়েলথ সরকার এবং সর্বসাধারণের জন্য প্রকাশ করা হবে।